ম্যাচ শেষ। প্রেস কনফারেন্স রুমে উপস্থিত আরিনা সাবালেঙ্কা। তবে নেই সেই চেনা তেজ। চোখ-মুখে একরাশ ক্লান্তি আর মনের গভীরে জমে থাকা গভীর হতাশা। ফরাসি ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকা সাবালেঙ্কার এমন শোচনীয় পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না টেনিসপ্রেমীরা। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি যা বললেন, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। কোনো অজুহাত নয়, বরং টেনিস থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার কথা জানালেন তিনি। সাবালেঙ্কার স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, “এই মুহূর্তে আমি টেনিস ছেড়ে দিতে চাই। জানি না কয়েকদিন পর কী মনে হবে। শুধু আশা করছি, মানসিকভাবে আবার নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারব।”
ঠিক কী ঘটেছিল কোর্টে? রোলাঁ গারোঁর এ বারের ড্রয়ে সাবালেঙ্কার সামনে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের সুবর্ণ সুযোগ ছিল। ইগা শিয়নটেক আগেই বিদায় নেওয়ায় শিরোপার দাবিদার হিসেবে তিনি ছিলেন সবচেয়ে এগিয়ে। ক্লে কোর্টে প্রথমবারের মতো বড় সাফল্য পাওয়ার লক্ষ্যে তিনি কোর্টে নামেন। ডায়ানা শ্নাইডারের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম দেড় সেট পর্যন্ত সবটাই ছিল সাবালেঙ্কার নিয়ন্ত্রণে। ৬-৩, ৫-২ সেটে এগিয়ে থাকা সাবালেঙ্কার ম্যাচ জিততে প্রয়োজন ছিল মাত্র দু’টি পয়েন্ট। কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় এক অভাবনীয় ধস। টানা ১০টি গেম হাতছাড়া করেন তিনি। শেষ সেটে ৬-০ ফলে পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন টুর্নামেন্ট থেকে।
মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সাবালেঙ্কা নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেন, “আমি গভীর এক অন্ধকার গর্তে পড়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে বেরোনোর কোনো রাস্তা খুঁজে পাইনি। শেষ কবে টানা ১০টি গেম এভাবে হেরেছি, মনে করতে পারছি না।” পুরো ম্যাচে তিনি ৫৭টি আনফোর্সড এরর বা অনিচ্ছাকৃত ভুল করেছেন, যা তাঁর মতো একজন খেলোয়াড়ের পক্ষে একেবারেই অপ্রত্যাশিত। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো গ্র্যান্ড স্ল্যামের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে নামা শ্নাইডার সাবালেঙ্কার এই মানসিক অস্থিরতার পূর্ণ সুযোগ নেন এবং নিয়মিত বল রিটার্ন করে ম্যাচ পকেটে পুরে নেন।
ম্যাচের পর নিজের হতাশা ঝাড়ার অদ্ভুত উপায় বেছে নিয়েছেন সাবালেঙ্কা। রসিকতার সুরে তিনি বলেন, “আমি বুঝে গিয়েছি, কী করতে হবে। এমন একটা জায়গায় যাব, যেখানে সবকিছু ভাঙা যায়। হয়তো কাল পুরো দিনটাই কাটাব জিনিসপত্র ভেঙে। কাজে লাগতে পারে, নাও পারে!” আসলে ক্লে বা ঘাসের কোর্টে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের চাপ তাঁকে অতিরিক্ত ভাবিয়ে তুলছে। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, “আমি খুব বেশি ভাবছি, এই ভাবনাই আমাকে আবেগপ্রবণ করে তুলছে। এভাবে হারতে হারতে আমি ক্লান্ত।”
গত বছর কোকো গফের বিরুদ্ধে ফরাসি ওপেন ফাইনালে যে ধরনের পতন দেখা গিয়েছিল, এ বছর কোয়ার্টার ফাইনালেও সেই একই ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি ঘটল। প্রতিপক্ষ কিংবা মঞ্চ বদলে গেলেও সাবালেঙ্কার হারের ধরন পাল্টায়নি। এটাই এখন বিশ্বসেরা এই খেলোয়াড়ের কাছে সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানসিকভাবে কতটা ভেঙে পড়লে একজন চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড় খেলা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেন, তা নিয়ে এখন তোলপাড় বিশ্ব টেনিস মহল।





