পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে আজ এক অভূতপূর্ব এবং ঐতিহাসিক মুহূর্ত। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা দীর্ঘদিনের চাপানউতোর আজ এক চরম পরিণতির দিকে পৌঁছাতে চলেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, আজ বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়ার লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বিধায়কদের একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কমপক্ষে ৬০ জন তৃণমূল বিধায়ক আজ অধ্যক্ষের (স্পিকার) কাছে পৌঁছাচ্ছেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এক বিশাল ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিধানসভার অন্দরমহল থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, তৃণমূলের অন্দরে এখন এক প্রবল মেরুকরণ চলছে। বিদ্রোহী বিধায়কদের এই গোষ্ঠীর মূল দাবি হলো, বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। সাবিনা ইয়াসমিনের মন্তব্য এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। বুধবার বিধানসভায় প্রবেশের সময় তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা যারা তৃণমূলের বিধায়ক, তারা মিলে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছি। বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা আমরা বিধানসভাতেই ঠিক করব।” তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দল থেকে আগে যে নামের প্রস্তাব এসেছিল, তাতে বিধায়কদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল গত মঙ্গলবার। সেদিন কুণাল ঘোষ এবং অসীমা পাত্ররা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্য সচেতক করার প্রস্তাব নিয়ে স্পিকারের দপ্তরে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই চিঠিতে কোনো বিরোধী বিধায়কের স্বাক্ষর ছিল না, যার ফলে সেই প্রস্তাব ধোপে টেকেনি। অভিযোগ উঠছে, শীর্ষ নেতৃত্ব বিধায়কদের মতামতের তোয়াক্কা না করেই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা দলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
আজ সকাল থেকেই কালো কাচের গাড়িতে চেপে বিদ্রোহী বিধায়কদের বিধানসভায় পৌঁছানোর দৃশ্য বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিধায়কদের অনেকে সরাসরি কথা বলতে রাজি না হলেও, তাঁদের এই শারীরিক উপস্থিতিই বড় বার্তা দিচ্ছে। কেউ ব্যক্তিগত কাজের দোহাই দিচ্ছেন, আবার কেউ সরকারি কাজের কথা বলছেন—কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নীরবতা আসলে বড়সড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস।
যদি আজ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সই সম্বলিত প্রস্তাব স্পিকারের দপ্তরে জমা পড়ে, তবে তা পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হবে। এর আগে কখনও কোনো রাজনৈতিক দল এভাবে নিজের অন্দরের লড়াইয়ে এবং বিধায়কদের প্রকাশ্যে বিদ্রোহের মুখে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের তৈরি করা দল কি তবে আজ থেকেই হাতছাড়া হতে চলেছে? আজকের দিনটি নিশ্চিতভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় একটি নতুন অধ্যায় লিখতে চলেছে, যা আগামী দিনের সমস্ত সমীকরণ বদলে দিতে সক্ষম।





