সভার অনুমতিতে অনীহা পুলিশের! মাত্র ২ ঘণ্টার ছাড়পত্র, কোন পথে এগোবেন মমতা?

বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে প্রথমবার পথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর ঠিক আগেই বড়সড় বাধার মুখে পড়ল ঘাসফুল শিবির। রানি রাসমণি রোডে সভার জন্য তৃণমূলের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে পুলিশ।

অনুমতি নিয়ে টানাপোড়েন আগামীকাল, ২ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই জনসভা হওয়ার কথা ছিল। তবে পুলিশ রানি রাসমণি রোডে সভার অনুমতি দেয়নি। বিকল্প হিসেবে পুলিশ ওয়াই চ্যানেল (Y-Channel) ব্যবহারের প্রস্তাব দিলেও, সেখানেও সভাস্থল নিয়ে আইনি জটিলতা রয়ে গেছে। পুলিশ সূত্রের খবর, সারা দিন সভার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়; বড়জোর ২ ঘণ্টার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলকে নতুন করে আবেদনের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।

দলের অন্দরেও অস্বস্তি ভোট-পরবর্তী সময়ে কেবল রাজনৈতিক লড়াই নয়, নিজের দলেও চাপের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কাউন্সিলর তারক সিনহা প্রকাশ্যেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন, যা দলের অভ্যন্তরে তীব্র অসন্তোষের ইঙ্গিত।

ব্যর্থ বৈঠক ও নেতাকর্মীদের নীরবতা সূত্রের খবর, শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা এবং রবিবার চণ্ডীতলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রান্ত হওয়ার পর দলের হাল বুঝতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার একটি বৈঠক ডেকেছিলেন। কিন্তু সেই বৈঠকও ভেস্তে যায়। অভিযোগ, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে বৈঠকে মাত্র ২০ জন উপস্থিত ছিলেন। অধিকাংশ বিধায়ক ও হেভিওয়েট নেতারা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দূরত্ব বজায় রাখছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই পরিস্থিতিতে নেতাদের নীরবতা এবং রাস্তায় না নামা নিয়ে দলের মধ্যেই ক্ষোভ ক্রমশ দানা বাঁধছে।

ভোটের পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করতে ডাকা বৈঠক বারবার স্থগিত হওয়ায় এবং জনসভার অনুমতি না পাওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে রাজ্য রাজনীতি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy