‘কালীঘাটের টালির চালা আসলে চোরেদের পাঠশালা!’ সই-জাল কাণ্ডে তৃণমূলকে বেনজির আক্রমণ শুভেন্দুর

বিধানসভায় সই-জালিয়াতির ঘটনা নিয়ে ফের তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই তদন্তকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করা হলেও, সোমবার নবান্ন থেকে সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় তৃণমূলের অন্দরমহলকে বিঁধে বলেন, “সব চোরেদের পাঠশালা, কালীঘাটের টালির চালা।”

প্রতিহিংসার অভিযোগ উড়িয়ে কড়া বার্তা

তৃণমূল নেতৃত্বের তোলা ‘প্রতিহিংসাপরায়ণতা’র অভিযোগকে একহাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই তদন্তের সূত্রপাত কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে হয়নি। বরং তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক স্পিকার বা অধ্যক্ষকে চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে, তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনানুগ তদন্ত শুরু হয়েছে।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও হুঙ্কার

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সই জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। আমাদের দল নয়, খোদ তৃণমূলের বিধায়করাই এই জালিয়াতির বিষয়টি সামনে এনেছেন। এখন আইন আইনের পথে চলবে এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কেন এই বিতর্ক?

উল্লেখ্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় সিআইডি তদন্ত শুরু করে এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তলব করা হয়। এদিনের মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চাপ আরও বাড়াল।

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সই-জাল কাণ্ডের এই তদন্ত কেবল প্রশাসনিক নয়, বরং শাসকদলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় বৈঠকের ব্যর্থতা এবং মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঙ্কার—সব মিলিয়ে তৃণমূলের জন্য আগামী দিনগুলো যে বেশ কঠিন হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy