জেইই অ্যাডভান্সড-এ বাজিমাত! হার্ডওয়্যার বিক্রেতার ছেলে শুভমের অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে কোন লড়াই?

গেল রাতেই প্রকাশিত হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষা জেইই অ্যাডভান্সড (JEE Advanced)-এর ফলাফল। আইআইটি রুরকি দ্বারা আয়োজিত এই পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে প্রথম স্থান দখল করেছেন দিল্লির শুভম কুমার। ৩৬০ নম্বরের পরীক্ষায় ৩৩০ পেয়ে তিনি এই অসামান্য নজির গড়েছেন। এর আগে জেইই মেন পরীক্ষায় ১০০ পার্সেন্টাইল স্কোর করে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছিলেন এই ১৮ বছর বয়সী মেধাবী তরুণ।

বিহারের গয়ার বাসিন্দা শুভমের জীবনের পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। তাঁর বাবা শিবকুমার সেখানে একটি ছোট হার্ডওয়্যার দোকানের বিক্রেতা। মা কাঞ্চন দেবী গৃহবধূ। তবে আর্থিক অনটন কখনও শুভমের উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। দশম শ্রেণির পর থেকেই আইআইটি-র স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে রাজস্থানের কোটায় পাড়ি দেন তিনি। গত দু’বছর ধরে সেখানে একটি কোচিং সেন্টারে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। শুভমের দিদি বর্তমানে আইআইটি পাটনার কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্রী, তাই উচ্চশিক্ষার লড়াইটা যে কতটা কঠিন, তা আগে থেকেই জানতেন তিনি।

সাফল্যের পর শুভম আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “বাবার মুখের হাসি দেখতে পাওয়াটাই আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি। তাঁর ত্যাগ ও পরিশ্রমের জন্যই আজ আমি এখানে।” শুভমের ছোটবেলা থেকেই লক্ষ্য ছিল আইআইটি বম্বে-তে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করা। আজ তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে।

এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের নেপথ্যে কোনো ম্যাজিক ছিল না, ছিল কঠোর শৃঙ্খলা। শুভম জানিয়েছেন, পরীক্ষার প্রস্তুতির পুরো সময়টা তিনি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সম্পূর্ণ দূরে ছিলেন। দিনের ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতেন। তাঁর মতে, পড়ার সময়ের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো অধ্যবসায় এবং শৃঙ্খলা। ক্লাসে যা পড়ানো হতো, তা প্রতিদিন বাড়িতে এসে রিভিশন দেওয়া তাঁর অভ্যেসের অংশ ছিল। বিশেষ করে যেসব বিষয়ে তিনি দুর্বল ছিলেন, সেগুলোতে বেশি জোর দিতেন।

তবে পড়াশোনাই সব নয়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে প্রতি রবিবার ক্রিকেট কিংবা ব্যাডমিন্টন খেলতেন তিনি। মনের একাগ্রতা ফেরাতে নিয়মিত ধ্যান করতেন। কোটার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অনেক চর্চা হলেও শুভমের কাছে সেটি ছিল সাফল্যের চাবিকাঠি। তাঁর এই অধ্যবসায় আজকের প্রজন্মের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিহারের এক সাধারণ হার্ডওয়্যার বিক্রেতার ছেলের এই আইআইটি জয়ের গল্প এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস।