বেঙ্গালুরুর ওল্ড এয়ারপোর্ট রোডে ফের সামনে এল ভিআইপি সংস্কৃতির চরম অস্বস্তিকর এক দৃশ্য। কর্নাটকের রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলটের কনভয় যাওয়ার সুবিধার্থে সাধারণ যান চলাচল স্তব্ধ করে দেওয়ায় পথচলতি মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। সেই ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে পড়েন এক ব্যক্তি, যিনি তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে জরুরি কাজে যাচ্ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় আটকে থাকার পর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে ওই ব্যক্তি প্রতিবাদে সোজা রাস্তার মাঝখানে বসে পড়েন।
ঘটনাটি ঘিরে উপস্থিত জনতার মধ্যে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ট্র্যাফিক পুলিশ ওই ব্যক্তিকে রাস্তা ছেড়ে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন। কিন্তু ওই ব্যক্তি ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রশ্ন তোলেন, “রাজ্যপাল ভিআইপি বলে কি সাধারণ মানুষের কোনো মূল্য নেই? একজন সাধারণ নাগরিকের সময়ের গুরুত্ব কি কিছুই নয়?” পুলিশের বারবার অনুরোধেও তিনি অনড় থাকেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যতক্ষণ না কনভয় যাচ্ছে বা রাস্তা খুলছে, তিনি নড়বেন না।
ভিডিওতে পুলিশের এক আধিকারিককে ওই ব্যক্তিকে শান্ত করার চেষ্টা করতেও দেখা যায়। পুলিশ বলেন, “আপনিও গুরুত্বপূর্ণ, দয়া করে উঠে যান।” কিন্তু ওই ব্যক্তি তাঁর দাবিতে অটল থাকেন। যদিও পরবর্তীতে কনভয়টি ওই জ্যামের মধ্য দিয়েই গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল, ভিআইপি সংস্কৃতির আড়ালে সাধারণ মানুষের হয়রানি কতখানি গভীর।
সম্প্রতি ভিআইপি সংস্কৃতি নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। সরকারি প্রোটোকল ও জাঁকজমকের কারণে জনভোগান্তি না হয়, সে বিষয়ে তিনি মন্ত্রীদের সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকী নিজের কনভয়ের আকারও অর্ধেক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তবুও কেন এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক মহলে। প্রশ্ন উঠছে ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনার সেই চিরচেনা চিত্র নিয়ে, যেখানে প্রোটোকলের নামে আমজনতার অধিকারকে প্রতিনিয়ত জলাঞ্জলি দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের জীবনের জরুরি চাহিদাকে উপেক্ষা করে ভিআইপিদের যাতায়াত কি সত্যিই কাম্য? এই বিতর্ক এখন বেঙ্গালুরুর প্রতিটি নাগরিকের মুখে মুখে।





