রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফের একবার ভবানীভবন। বহু প্রতীক্ষিত সোমবারের সকালে ভবানীভবনে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে নির্ধারিত সময়ে তিনি সেখানে পৌঁছাননি। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডি-কে একটি চিঠি পাঠিয়ে তাঁর অনুপস্থিতির কথা জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, চিঠিতে তিনি নিজের অসুস্থতার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন একটি তারিখ চেয়ে পাঠিয়েছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনুপস্থিতির ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই বিষয়টিকে নিয়ে নানামুখী বিশ্লেষণ শুরু করলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হচ্ছে যে এটি সম্পূর্ণভাবে স্বাস্থ্যজনিত কারণে নেওয়া সিদ্ধান্ত। এখন সবার নজর সিআইডির পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। সিআইডি আধিকারিকরা অভিষেকের আবেদনটি বিবেচনা করে নতুন কোনো দিন ধার্য করেন কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা চলছে।
উল্লেখ্য, সই জালিয়াতি কাণ্ডের তদন্তের গতি বাড়াতে সম্প্রতি একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ দলই ঘটনার বিভিন্ন দিক, নথিপত্র এবং জালিয়াতির পদ্ধতির গভীরে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তকারী সূত্রে খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাজিরা দিলে তাঁকে সরাসরি সিট-এর সদস্যদের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। আজকের এই অনুপস্থিতির ফলে সেই জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে তদন্তের কাজ যে থেমে থাকবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে সিট। ইতিমধ্যেই তদন্তকারী দল বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজনের বয়ান রেকর্ড করেছে। এই সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং তদন্ত কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে সিট-এর সদস্যরা নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা চালাচ্ছেন। সই জালিয়াতি কাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ফলে আজ তিনি না এলেও, আগামী দিনে এই মামলার তদন্ত কীভাবে এগোয়, তা এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল এখন তাকিয়ে রয়েছে সিআইডি-র সেই নতুন নির্ঘণ্টের দিকে, যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হবেন।





