সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্য রাজনীতিতে আরও এক চাঞ্চল্যকর মোড়। একদিকে বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগে সিআইডি-র তলব, অন্যদিকে শাসকদলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিধায়কদের চরম অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে ঘোর সংকটে তৃণমূল কংগ্রেস।
কালীঘাটে ভেস্তে গেল বৈঠক রবিবার বিকেলে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে বিধায়কদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। আলোচনার মূল বিষয় ছিল, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য সই জাল করার অভিযোগ এবং এই বিষয়ে দলের পরবর্তী রণকৌশল। কিন্তু ৮০ জন জয়ী বিধায়কের মধ্যে মাত্র ২০ জন উপস্থিত হওয়ায় বৈঠকটি মাঝপথেই বাতিল করতে বাধ্য হন দলনেত্রী।
একইসঙ্গে জোড়া বিপত্তি গত কয়েকদিন ধরেই অস্বস্তি পিছু ছাড়ছে না শাসকদলের। সই জালিয়াতির অভিযোগে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিআইডি তলব করেছে। এর ঠিক পরের দিনই সোনারপুরে অভিষেকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে দলের ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু দলের সিংহভাগ বিধায়কের এই অনুপস্থিতি শীর্ষ নেতৃত্বের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের সাফাই বিধায়কদের এই বিপুল অনুপস্থিতি নিয়ে দলের নেতা কুণাল ঘোষ অবশ্য ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, “বিভিন্ন এলাকায় ভোট-পরবর্তী হিংসা সামলাতে এবং দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে অনেক বিধায়ক নিজ নিজ এলাকায় আটকে আছেন। আগেভাগেই তাঁরা বৈঠকে আসতে না পারার বিষয়টি নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন। পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই বৈঠকের দিন পরিবর্তনের আবেদন করা হয়েছিল।” বিধায়করা যে দলের নির্দেশ মেনে চলতে প্রস্তুত, সেই দাবিও করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা দলীয় যুক্তি যাই হোক না কেন, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এটিকে কেবল সাংগঠনিক ব্যস্ততা হিসেবে দেখতে রাজি নন। তাঁদের মতে, অভিষেকের ওপর হামলা এবং সিআইডি-র তদন্তের মতো স্পর্শকাতর সময়ে বিধায়কদের এই ‘দূরত্ব’ বুঝিয়ে দিচ্ছে তৃণমূলের অন্দরে সব কিছু স্বাভাবিক নেই। এটি দলের প্রতি বড় কোনো অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ কি না, তা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে।





