তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্তিনিকেতনের বাড়িতে সিআইডি-র হানা ঘিরে শনিবার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এদিন দুপুরে সিআইডি-র চার সদস্যের একটি দল শান্তিনিকেতনে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছালে, সেখানে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। পরে অভিষেক নিজেই গোটা ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।
শান্তিনিকেতনে কেন সিআইডি? সূত্রের খবর, বিধানসভার পরিষদীয় দলের একটি চিঠিতে স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পর বিধানসভায় পাঠানো ওই চিঠিতে কয়েক জন বিধায়কের সই নিয়ে অসঙ্গতি ছিল বলে অভিযোগ। এই মামলাতেই এর আগে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের বাড়িতেও সিআইডি আধিকারিকরা গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
অভিষেকের কঠোর অবস্থান: সিআইডি-র হানা প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি শান্তিনিকেতনে থাকেন না, তাঁর বাড়ি কালীঘাটে। তিনি বলেন, “সিবিআই-এর কাছে মাথা নত করিনি, সিআইডি-র কাছেও মাথা নত করব না।” বেলেঘাটা ও সোনারপুরে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি সেরে কালীঘাটে ফেরার পর সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। অভিষেক বাড়ির নিচে নেমে তাঁদের থেকে নোটিশ গ্রহণ করেন এবং তাঁদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথাও বলেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ভোটের পর থেকেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা ও মুখ্যসচেতক নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি ও পরিষদীয় জটিলতা তৈরি হয়েছে। দলের তরফে পাঠানো চিঠিতে অভিষেকের সই নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে, যা এখন তদন্তের পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও তৃণমূলের দাবি, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার একটি অংশ।
গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। একদিকে বিরোধী দলগুলি এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে সরব হয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, কেন্দ্র ও রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে তাঁদের দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে হেনস্থা করার চেষ্টা চলছে।





