নেপাল হয়ে ভারতে বড় নাশকতার ছক? দাউদ বাহিনীর ৯ সদস্য গ্রেফতার স্পেশ্যাল সেলের অভিযানে

ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গড়ে ওঠা একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের পর্দাফাঁস করল দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল। কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিম এবং পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর মদতপুষ্ট এই চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরেই দেশের অন্দরে অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনা করছিল বলে অভিযোগ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্পেশ্যাল সেল এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। সূত্রের খবর, ধৃতদের মধ্যে নেপালের বেশ কয়েকজন নাগরিকও রয়েছে, যা এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই গ্যাংটির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। গোপন সূত্রে খবর আসে যে, দাউদ ইব্রাহিমের নির্দেশে এবং আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ মদতে এই চক্রটি ভারতে বড় কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপরই জাল বিছিয়ে শুক্রবার রাতে তাদের আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। সংবাদ সংস্থা আইএএনএস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ৯ জনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরক তৈরির প্রচুর সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। যা থেকে স্পষ্ট, তারা কোনো সাধারণ অপরাধী নয়, বরং ভারতবিরোধী বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ।

পুলিশি জেরার প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, এই গ্যাংটি দীর্ঘদিন ধরে ভারত-নেপাল সীমান্ত ব্যবহার করে অস্ত্র চোরাচালান এবং জাল নোটের কারবার চালাচ্ছিল। দাউদ ইব্রাহিমের ডি-কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে তারা ভারতে এমন কিছু ‘স্লিপার সেল’ তৈরি করতে চেয়েছিল, যা প্রয়োজনে দেশের প্রধান শহরগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, আইএসআই-এর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কিছু সদস্যের এই দলে থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।

নেপালি নাগরিকদের এই চক্রে যুক্ত থাকার বিষয়টি বর্তমানে তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পাকিস্তান এবং ভারতবিরোধী শক্তিগুলো যে কীভাবে তৃতীয় দেশ অর্থাৎ নেপালকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে, এই গ্রেফতারি তার জ্বলন্ত প্রমাণ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ এখন জানার চেষ্টা করছে, তাদের পরবর্তী টার্গেট কী ছিল এবং আর কারা এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছে।

দিল্লি পুলিশের এই সাফল্যকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাতে দাউদ ইব্রাহিম ও আইএসআই-এর এই যৌথ উদ্যোগকে রুখে দেওয়া ভারতের বড় সাফল্য বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। বর্তমানে ধৃত ৯ জনকে কঠোর পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী বড় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে দিল্লি পুলিশ। শহরের বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy