ফের শিরোনামে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন। দক্ষিণ কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত অভিষেকের ব্যক্তিগত বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’-এ আচমকাই উপস্থিত হলেন সিআইডি (CID)-র চার আধিকারিক। শনিবার দুপুরে গোয়েন্দাদের এই বিশেষ দলটিকে ওই ঠিকানায় পৌঁছাতে দেখা যায়। গোয়েন্দাদের এমন আকস্মিক অভিযানে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্রের খবর, শনিবার দুপুর নাগাদ সিআইডি-র একটি দল চারজনের বিশেষ বাহিনী নিয়ে অভিষেকের বাড়ির সামনে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছেই তাঁরা দেখতে পান যে ‘শান্তিনিকেতন’-এর মূল প্রবেশদ্বার বন্ধ। বেশ কিছুক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এরপরেই বাড়ির ভেতর থেকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে আসেন। গোয়েন্দারা জানতে চান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায়। ওই ব্যক্তি স্পষ্ট জানান যে অভিষেক বর্তমানে বাড়িতে নেই। এমনকি বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে তিনি এই বাড়িতে আসেনওনি। ওই ব্যক্তি আরও জানান, বর্তমানে বাড়িতে শুধুমাত্র কয়েকজন কর্মী রয়েছেন। গোয়েন্দারা ওই ব্যক্তির নাম ও পরিচয় বিস্তারিতভাবে লিখে নেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বাসভবনে সিআইডি-র এই পরিদর্শন ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা। তদন্তকারীরা ঠিক কোন কারণে এবং কোন নির্দিষ্ট মামলার সূত্র ধরে শনিবার দুপুরে সেখানে হাজির হয়েছিলেন, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, অভিষেক বাড়িতে নেই জেনেও কেন গোয়েন্দারা বাড়িতে গেলেন? বাড়িতে থাকা কর্মীর পরিচয় নেওয়ার উদ্দেশ্যই বা কী?
প্রসঙ্গত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনকে কেন্দ্র করে এর আগেও বিভিন্ন সময় তদন্তকারী সংস্থাগুলির তৎপরতা দেখা গেছে। তবে শনিবারের এই ঘটনায় গোয়েন্দাদের অতিসক্রিয়তা নিয়ে শাসকদলের অন্দরে ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বাড়ির গেট বন্ধ থাকা এবং বাইরে গোয়েন্দাদের অপেক্ষারত অবস্থার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে যায়। সবমিলিয়ে শনিবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার রাজনৈতিক আবহ সরগরম হয়ে উঠেছে গোয়েন্দাদের এই আকস্মিক পদক্ষেপে। তদন্তের স্বার্থে সিআইডি পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।





