উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের খোদা থানা এলাকায় বকরিদের দিনে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। মৃত কিশোরের নাম সূর্য প্রতাপ চৌহান (১৭)। অভিযোগ, বকরিদের উৎসবে ছাগল জবাই প্রত্যক্ষ করার জন্য তার মুসলিম বন্ধুরা তাকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেছিল। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যাদের মধ্যে দু’জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
কী ঘটেছিল সেই দিন?
ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ মে, বৃহস্পতিবার। অভিযোগ অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ সূর্যের বন্ধু আসাদ তাকে ফোন করে। ফোনে আসাদ তাকে প্রশ্ন করে, সে কখনও ছাগল জবাই হতে দেখেছে কি না। সূর্য ‘না’ বলায়, আসাদ তাকে তা স্বচক্ষে দেখার জন্য জোর করতে থাকে। কিন্তু সূর্য যেতে অস্বীকার করলে, আসাদ ও তার সঙ্গীরা অতর্কিতে তার ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় সূর্যকে নয়ডার ফোর্টিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও মায়াবতীর বার্তা:
এই ঘটনার পর থেকেই হিন্দু সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দানা বেঁধেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মৃত কিশোরের বড় ভাই যশের অভিযোগের ভিত্তিতে খোদা থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতী এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “গাজিয়াবাদের খোদা গ্রামে সূর্য চৌহানের হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেজন্য সরকার ও প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
মায়াবতী আরও সতর্ক করে বলেছেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরণের ঘটনা বড় ধরনের উত্তেজনার কারণ হতে পারে। তাই সরকারকে প্রতিটি বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তিনি দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন।
আইনি পদক্ষেপ:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত ও তার পরিবারের খোঁজে পুলিশের তিনটি বিশেষ দল তল্লাশি চালাচ্ছে। যদিও মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক, তবে পুলিশ জানিয়েছে যে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ধর্মীয় উৎসবের দিনে বন্ধুত্বের আড়ালে ঘটা এই বর্বরোচিত ঘটনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর এক বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসন এখন পরিস্থিতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে যাতে কোনোভাবেই শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়।





