অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলাপ এবং নাম নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে বিশেষ উদ্যোগ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১২ পাতার দীর্ঘ ফর্ম এবং জটিল তথ্য প্রদানের প্রক্রিয়ায় বহু মানুষ বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কোনো নাগরিকের বিচলিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রকৃত প্রাপকদের হাতে সরকারি অর্থ পৌঁছে দেওয়া এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম পর্যায়ে সরকার সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে হস্তান্তর করবে। এই প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী বুধবার থেকেই। তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, “যাঁরা ফর্ম ফিলাপ করতে পারছেন না বা বুঝতে সমস্যা হচ্ছে, তাঁদের একেবারেই দুশ্চিন্তা করার কারণ নেই। আমাদের কর্মীরা সরাসরি আপনাদের বাড়িতে যাবেন এবং ফর্ম পূরণে সম্পূর্ণ সহায়তা করবেন।” সরকারের এই উদ্যোগে উপভোক্তাদের আর কোনো দালালের খপ্পরে পড়তে হবে না বা বিভ্রান্ত হতে হবে না।
এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পেছনে সরকারের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে জানান, “আমরা চাই সরকারি এই প্রকল্পের টাকা প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই পৌঁছাক। কোনোভাবেই যাতে প্রকল্পের সুবিধা অভারতীয় বা অযোগ্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে না যায়, সে বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে।” অতীতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে যে ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল, এবার অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে সরকার সেই পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে, মহিলাদের জন্য ঘোষিত এই কর্মসূচির অর্থ যাতে পুরুষদের অ্যাকাউন্টে চলে না যায়, তার ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। ইতিপূর্বেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার জালিয়াতির অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশ কিছু পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বর্তমান রাজ্য সরকার আর্থিক শৃঙ্খলা বা ‘ফাইনান্সিয়াল ডিসিপ্লিন’ মেনে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি প্রকৃত উপভোক্তাকে চিহ্নিত করে খুঁজে বের করাই সরকারের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের দেওয়া সংকল্প পত্রের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কোনো আপস করবে না।
মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, কোনো প্রকার গুজবে কান দেবেন না। প্রকল্প সম্পর্কিত যেকোনো সমস্যার সমাধান সরাসরি সরকারি কর্মীরা করবেন। অন্নপূর্ণা যোজনা সাধারণ মানুষের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য ফেরাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাই ফর্মের জটিলতা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি সাহায্যের অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের এই সাহসী ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ বাংলার প্রতিটি যোগ্য পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।





