নয়ডা-গ্রেটার নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে অবস্থিত সেক্টর ১৬৮-এর অভিজাত ‘লোটাস জিং’ সোসাইটিতে গত পাঁচ দিন ধরে চলছে চরম পানীয় জলের সংকট। প্রায় ১,০০০ ফ্ল্যাটের এই বিশাল সোসাইটিতে ৩,০০০-এরও বেশি মানুষ বসবাস করেন। জলের অভাবে তাঁদের দৈনন্দিন জীবন এখন কার্যত বিপর্যস্ত। স্নান করা, রান্না করা কিংবা গৃহস্থালির সাধারণ কাজের জন্য বাসিন্দাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে জলের ট্যাঙ্কারের জন্য।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সোসাইটির পাইপলাইন ও জল সরবরাহের মূল মোটর বিকল হয়ে যাওয়ায় এই বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কিছু টাওয়ারে জল সরবরাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, অনেকেই স্নান করার জন্য বন্ধুদের বা আত্মীয়দের বাড়ি ছুটছেন। কাজকর্মে যাওয়ার আগে পরিচ্ছন্ন হওয়ার জন্য পরিচিতদের বাড়িতে ভিড় করছেন অনেকে। এমনকি সংকটের চোটে অনেক পরিবার সাময়িকভাবে নিকটবর্তী হোটেল বা গেস্ট হাউসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সোসাইটির বাসিন্দাদের দাবি, তাঁরা বারবার সোসাইটি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। বয়স্ক, নারী ও শিশুদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। সোসাইটিতে যে কয়েকটি জলের ট্যাঙ্কার পাঠানো হচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় সমুদ্রের বিন্দুর মতো। ট্যাঙ্কার আসা মাত্রই জল ভরার জন্য বাসিন্দাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনবহুল এই সোসাইটিতে নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি করছে।
রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সঠিক সময়ে মেরামতির ব্যবস্থা নিলে এই দুর্দিন দেখতে হতো না। তাঁরা অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তরও দিচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি নিয়ে জল দপ্তরের কর্মকর্তা আরপি সিং জানান, “জলাধারের মোটর বিকল হওয়ার ফলেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ইতিমধ্যে মোটর মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত সব ফ্ল্যাটে নিয়মিত জল সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”
এখন দেখার, কবে এই ৩,০০০ মানুষ আবার নিশ্চিন্তে নিজের বাড়িতে জল পান। বাসিন্দারা দ্রুত এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন তাঁরা।





