‘দিদির আমলে ভালো ছিলাম, এখন ভয়’! রাজ্য ছাড়ছেন অবৈধ বাংলাদেশিরা, হাকিমপুর সীমান্তে হাহাকার

পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পরেই নতুন বিজেপির ‘ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট’ নীতি কার্যকরের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আর এই প্রশাসনিক কড়াকড়ির খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর আন্তর্জাতিক সীমান্তে বাংলাদেশিদের ঢল নেমেছে। বছরের পর বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে লুকিয়ে বসবাসকারী অবৈধ অভিবাসীরা এখন জেল-জরিমানা ও বহিষ্কারের ভয়ে মরিয়া হয়ে নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে বসবাসকারী আব্দুল নামে এক ব্যক্তি জানালেন, ২০১৭ সাল থেকে তিনি এখানে থাকলেও এখন আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছেন না। তাঁর কথায়, “আগে দিদির (মমতা ব্যানার্জী) সরকারে কোনো সমস্যা ছিল না, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের মদতেই আমরা এখানে নিশ্চিন্তে রিকশা চালিয়েছি। কিন্তু এখনকার নতুন সরকারের নীতি একেবারেই আলাদা। কাগজপত্র না থাকলে সরাসরি জেল-জরিমানা—যা দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই।” আব্দুল আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, স্থানীয় দলীয় নেতারা আগে থেকেই তাঁদের উপস্থিতির কথা জানতেন এবং একসময় পুরভোটের সময়ও তাঁদের নাম তোলা হয়েছিল।

অন্যদিকে, দালাল চক্রের মাধ্যমে ভারতে অনুপ্রবেশের এক মর্মান্তিক চিত্র ফুটে উঠেছে সুমাইয়া খাতুনের কথায়। দুই বছরের কন্যাসন্তানকে নিয়ে ফেরা সুমাইয়া জানান, ১৫ হাজার টাকা দালালের হাতে তুলে দিয়ে দুই বছর আগে তিনি সীমান্ত পার হয়েছিলেন। ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে মধ্যমগ্রামের এক মন্দিরে বিয়ে করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বামীও তাঁকে ‘বাংলাদেশি’ বলে তাড়িয়ে দিচ্ছে। সুমাইয়ার কথায়, “আমি থাকতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পরিস্থিতির চাপে আজ সব শেষ। দেশে আমার মা অপেক্ষা করছে, স্বামীর মুখ আর দেখার ইচ্ছে নেই।”

এদিকে, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর সমস্ত জেলাশাসককে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) নির্দেশিকা মেনে অবিলম্বে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। গত ২৩ মে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রাজ্যে বসবাসকারী অবৈধ বিদেশি, বিশেষ করে বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। ধৃত বিদেশি বা যাদের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদেরও এই হোল্ডিং সেন্টারে রাখার প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের পর থেকে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সরকারি এই ধরপাকড়ের ভয়েই কার্যত বিনা নোটিশে দেশ ছাড়ছেন হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy