জমি জালিয়াতি এবং আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগে তোলপাড় কলকাতা। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হেফাজতে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যবসায়ী সোনা পাপ্পু ও পুলিশকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে কড়া নিরাপত্তায় ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করানো হলো। ১০ দিনের ইডি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁদের আদালতে পেশ করা হয়, যা ঘিরে আদালত চত্বরে তৈরি হয় ব্যাপক চাঞ্চল্য।
তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য:
ইডি সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তকারীরা জমি হস্তান্তর, মালিকানা পরিবর্তন এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন। বেশ কিছু ব্যাংক ট্রানজ্যাকশন এবং জমি ক্রয়-বিক্রয়ের নথি ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা এই জালিয়াতির মূল শিকড় সন্ধানে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। মূলত, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কীভাবে সরকারি প্রভাব কাজে লাগিয়ে জমি দখল ও আর্থিক নয়ছয় করছিল, তার প্রতিটি দিক এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলে আলোড়ন:
পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এই মামলায় জড়িয়ে পড়ায় প্রশাসনিক স্তরেও তীব্র শোরগোল পড়েছে। একজন পুলিশকর্তার এমন আর্থিক দুর্নীতিতে ভূমিকা থাকায় প্রশ্ন উঠছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্দরের যোগসাজশ নিয়েও। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী সোনা পাপ্পুর অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য এবং তাঁর ব্যবসায়িক লেনদেনের উৎস নিয়েও তদন্তকারীরা গভীরভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। ইডি তদন্তে আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম সামনে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
আদালতে দুই পক্ষের লড়াই:
এদিন আদালতে ইডির আইনজীবীরা তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে সওয়াল করেন। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের থেকে আরও তথ্য প্রয়োজন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন যে তাঁদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তাঁরা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। দীর্ঘ হেফাজতের কথা উল্লেখ করে তাঁদের জামিনের আবেদন জানানো হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত পরবর্তী নির্দেশ সংরক্ষণ করেছে।
বৃহস্পতিবার আদালত চত্বরে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ও মিডিয়ার উপস্থিতিতে পুরো এলাকা কার্যত সরগরম হয়ে ওঠে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই নজর সবার।





