বারাসাতে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চরম রূপ! আক্রান্ত জেলা সভাপতি, আসল ঘটনা কী?

উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাতে বিজেপি যেন এখন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি। প্রকাশ্য দিবালোকে দলের আদি ও নব্য গোষ্ঠীর কোন্দল যে চরমে পৌঁছাতে পারে, বারাসাতের আজকের ঘটনা তা আবারও প্রমাণ করল। ক্লাব দখলকে কেন্দ্র করে দলেরই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে যে পরিমাণ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হলো, তাতে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনায় শুধুমাত্র সাধারণ কর্মী-সমর্থকরাই নন, আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপির জেলা সভাপতিও। তাঁকে প্রকাশ্য রাস্তায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাড়া করার পাশাপাশি বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘ দিন ধরেই বারাসাত এলাকায় ক্লাব পরিচালনা ও তার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিজেপির আদি এবং নব্য কর্মীদের মধ্যে বিবাদ চলছিল। বুধবার দুপুরে সেই বিবাদ আচমকাই চরম আকার ধারণ করে। উভয় পক্ষের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে একে অপরের ওপর। ক্লাবের দখল বুঝে নিতে রীতিমতো রণক্ষেত্র তৈরি হয়ে যায় এলাকাটি। বিজেপির জেলা সভাপতি ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি সামাল দিতে এলে, তিনিও রেহাই পাননি। তাঁকে ঘিরে ধরে নব্য বিজেপি গোষ্ঠীর লোকজন মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ আদি কর্মীদের। জেলা সভাপতির পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং ধারালো অস্ত্রের মুখে তাঁকে কোনঠাসা করে রাখা হয়।

এই খবর চাউর হতেই এলাকায় উত্তেজনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বারাসাত থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে। কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে, তবে ধৃতদের পরিচয় নিয়ে এখনো মুখ খোলেনি প্রশাসন।

এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। দলীয় সূত্রে খবর, নির্বাচনের আগে থেকেই বারাসাতে বিজেপির সংগঠনকে শক্তিশালী করার নামে নব্য কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল। যা একেবারেই ভালো চোখে দেখেননি দীর্ঘদিনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা। এই ক্ষোভই যে আজকের এই নারকীয় তাণ্ডবের মূল কারণ, তা এখন স্পষ্ট। একদিকে যখন রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপি নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে মরিয়া, তখন দলের অভ্যন্তরে এই ধরণের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।

বিজেপি জেলা সভাপতির ওপর হামলার ঘটনায় বিজেপির নব্য গোষ্ঠীর দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন আদি কর্মীরা। যদিও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। তবে স্থানীয় বিধায়ক ও দলীয় কর্মীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকায় পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে নতুন করে যাতে কোনো অশান্তি না ছড়ায়, সেই কারণে মোতায়েন রাখা হয়েছে পুলিশ পিকেট। এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে দলের ভাবমূর্তিকে আবারও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy