তৃণমূল জমানার ‘কীর্তি’ ফাঁস! গ্রিন সিটি প্রকল্পে দুর্নীতির দায়ে আরামবাগে গ্রেফতার পুরসভার কর্মী ও ঠিকাদার

রাজ্যে সরকার বদল হতেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন। এবার ‘গ্রিন সিটি’ (Green City) প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক তছরূপের অভিযোগে সরগরম হুগলির আরামবাগ। এই ঘটনায় দুই অস্থায়ী পৌরকর্মী এবং এক ঠিকাদার সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে আরামবাগ থানার পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর গ্রেফতারির পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পলাতক আরামবাগ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্তমান তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৫ই মে ‘TV9 বাংলা’-য় প্রথমবার এই দুর্নীতির খবর এক্সক্লুসিভলি সম্প্রচারিত হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়। আরামবাগ পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান সমীর ভান্ডারী ২০২২ সালে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরই প্রকল্পের বিপুল অসঙ্গতি ও সরকারি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নজরে আসে। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী তৃণমূল বোর্ডের আমলে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই তৎকালীন পুরপ্রধান স্বপন নন্দী নিজের প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের এক ঠিকাদার সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দেন।

প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, আরামবাগ পুরসভা এলাকার ১২টি স্কুলে সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা ছিল। প্রতি স্কুলের জন্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা করে বিল বরাদ্দ করা হয়েছিল। অভিযোগ, বাস্তবে কোনো কাজই হয়নি, অথচ পুরসভার লাইট বিভাগের অস্থায়ী কর্মী কৌস্তভ মুখোপাধ্যায় ও অস্থায়ী ইঞ্জিনিয়ার মানস কুন্ডুকে সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থাকে সরকারি কোষাগারের টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন পুরসভার অডিটে এই দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ মেলে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বর্তমান চেয়ারম্যান সমীর ভান্ডারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন পুরসভার অস্থায়ী কর্মী কৌস্তভ মুখোপাধ্যায়, অস্থায়ী ইঞ্জিনিয়ার মানস কুন্ডু এবং ঠিকাদার স্বর্ণাভ ঘোষ ওরফে টুম্বা। হুগলি রুরাল পুলিশের অ্যাডিশনাল এসপি এই গ্রেফতারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে বিজেপি সরকার আসায় প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সম্ভব হচ্ছে।

আরামবাগের বিজেপি বিধায়ক হেমন্ত বাগ সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “তৃণমূলের আমলে আরামবাগ পুরসভায় কোটি কোটি টাকা লুঠ হয়েছে। ধৃতরা তো কেবল চুনোপুঁটি, আসল রাঘব বোয়াল প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন নন্দীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।” এদিকে, এই ঘটনায় তৃণমূলের প্রাক্তন পুরপ্রধানের ভূমিকা নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে। প্রাক্তন বোর্ডের এই দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক বিশ্বনাথ কারক আগেই তৎকালীন পুরমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বর্তমানে এই কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে আরামবাগ পুরসভার অন্দরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy