উত্তরপ্রদেশে বড়সড় সন্ত্রাসবাদী চক্রান্তের পর্দাফাঁস করল ইউপি এটিএস (ATS) এবং এসটিএফ (STF)। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চার সন্দেহভাজন যুবককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ধৃতদের মধ্যে দুই যুবকের বাড়ি সাহারানপুরের সরসাওয়া এলাকার ধিক্কা কালা গ্রামে—মাহকাব ও শাহরুখ। বাকি দু’জন মুজাফফরনগরের গগনদীপ এবং উত্তরাখণ্ডের মুশাররফ। গ্রেপ্তারির খবর প্রকাশ্যে আসতেই হতবাক ওই যুবকদের পরিবার এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
পরিবারের দাবি, ছেলেরা নির্দোষ
মাহকাব ও শাহরুখের পরিবারের দাবি, তাদের ছেলেরা কোনোভাবেই দেশবিরোধী বা কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নয়। মাহকাবের বাবা হাসরাত জানান, তাঁর ছেলে মাত্র অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। গত তিন মাস ধরে সে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় ওয়েল্ডার হিসেবে কাজ করছিল এবং মাসে ১৫,০০০ টাকা আয় করে সংসার চালাত। হাসরাতের কথায়, “আমার ছেলে সহজ-সরল, এমনকি স্মার্টফোন চালানোও সে ঠিকমতো জানে না। আগে একবার জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বুধবার আচমকা তাকে লখনউতে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো পরিবার এখন শোকে বিহ্বল।”
একই সুর শোনা গেল শাহরুখের বাবা ইকরামের গলায়। তিনি জানান, পঞ্চম শ্রেণি পাস করা শাহরুখ পেশায় রাজমিস্ত্রি। দেড় মাস আগেই সে দেরাদুনে কাজের খোঁজে গিয়েছিল। ইকরামের ক্ষোভ, “যদি ছেলে কোনো বিদেশি তহবিল বা অবৈধ টাকা পেত, তবে আমাদের অভাব ঘোচত। সে একজন সাধারণ শ্রমিক, পাকিস্তানের সঙ্গে তার কী সম্পর্ক থাকতে পারে?” তিনি এও মনে করিয়ে দেন যে, অতীতেও এটিএসের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া অনেক ব্যক্তি পরে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।
গ্যাংস্টারের সাথে কী যোগাযোগ?
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর প্রাথমিক দাবি, ধৃত যুবকরা সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাকিস্তান-ভিত্তিক গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির নেটওয়ার্কের সংস্পর্শে এসেছিল। গোয়েন্দাদের নজরদারিতে উঠে এসেছে বেশ কিছু সন্দেহজনক ডিজিটাল চ্যাট, বিদেশি নম্বরের সঙ্গে সংযোগ এবং ডিজিটাল কার্যকলাপের তথ্য। সংস্থাগুলোর মতে, এই ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতেই যুবকদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে গ্রামবাসীরা গোয়েন্দাদের এই দাবি মানতে নারাজ। স্থানীয়দের মতে, মাহকাব বা শাহরুখ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সঙ্গেই খুব একটা পরিচিত নয়। তারা দিনমজুরি করে পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিত। তারা কোনোদিন কোনো বিবাদ বা অশান্তিতেও জড়ায়নি।
তদন্তে প্রশাসন
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মডিউলটি ঠিক কতটা সক্রিয় ছিল এবং তাদের মূল লক্ষ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং তাদের আর্থিক লেনদেনের উৎস নিয়েও শুরু হয়েছে বিস্তারিত তদন্ত। এখন লখনউতে ধৃতদের টানা জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে একদিকে গোয়েন্দাদের তোলা ‘সন্ত্রাসবাদী যোগ’-এর দাবি এবং অন্যদিকে পরিবারের ‘সাদামাটা পরিশ্রমী জীবন’-এর বয়ান—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ধিক্কা কালা গ্রামে এখন থমথমে পরিস্থিতি। সত্যিটা কি গোয়েন্দাদের দাবি অনুযায়ী, নাকি এটি কোনো ভুল বোঝাবুঝি, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।





