রাজ্যজুড়ে সরকারি প্রকল্পের নতুন অধ্যায় ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার রাত থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া। রাজ্যের মহিলাদের মাসে ৩০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্পে অনলাইন ও অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতেই আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী ১ জুন থেকে টানা ৯০ দিন ধরে চলবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ।
প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, বিডিও অফিস, এসডিও অফিস ও জেলা শাসকের দপ্তর থেকে অফলাইনে ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। বড় পুরসভা বা কর্পোরেশন এলাকায় ওয়ার্ড ও বরো ভিত্তিক ফর্ম ফিলাপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া পঞ্চায়েত স্তরে আধিকারিকরা আগামী ৩০ দিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের বিশেষ ড্রাইভ চালাবেন।
তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে একটি বিস্তারিত ১৩ পাতার ফর্ম পূরণ করতে হবে। সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আবেদনকারীকে সাতটি প্রধান বিভাগে তথ্য জমা দিতে হবে: পারিবারিক পরিচয়, খাদ্য ভর্তুকি সংক্রান্ত তথ্য, সম্পদের বিবরণ, পারিবারিক উপার্জন, অন্যান্য পরিচয়পত্র, শিশু সদস্যের বিবরণ এবং বর্তমানে অন্য কোনো সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তার উল্লেখ।
বিশেষ করে সম্পদের বিবরণের ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও সতর্ক। ফর্ম পূরণের সময় আবেদনকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, তার বাড়িতে তিনটি বা তার বেশি পাকা ঘর আছে কি না। এছাড়া পারিবারিক জমির মালিকানা থাকলে তার রেজিস্ট্রেশন নথি, মিউটেশন কপি ও হালনাগাদ করা জমির রেকর্ডের (RoR) প্রতিলিপি বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে। পরিবারের সকল সদস্যের সম্মিলিত জমির পরিমাণও এখানে উল্লেখ করতে হবে।
শুধু জমি বা বাড়ি নয়, পরিবারের সচ্ছলতা যাচাইয়ের জন্য অ-বাণিজ্যিক মোটর চালিত চার চাকার গাড়ি আছে কি না, তাও জানাতে হবে। গাড়ি থাকলে তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও মডেলের বিবরণ ফর্মে লিখতে হবে। পাশাপাশি, পরিবারের কারোর স্বাস্থ্য বিমা থাকলে সেই বিমার অঙ্ক ও প্রিমিয়ামের পরিমাণও তথ্য হিসেবে দিতে হবে।
এই প্রকল্পের ফর্ম পূরণ প্রক্রিয়াটি বেশ তথ্যবহুল। সরকারের লক্ষ্য, প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে তাদের হাতে এই ৩০০০ টাকার সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। তাই ফর্মের প্রতিটি অপশন অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পূরণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রশাসনিক কর্তারা। যারা সরাসরি অনলাইনে আবেদন করতে পারছেন না, তাদের জন্য স্থানীয় প্রশাসনিক কেন্দ্র বা বাড়ি বাড়ি আসা আধিকারিকদের সাহায্য নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।





