গরমে প্রাণ জুড়াতে রুট বিয়ারে চুমুক? অজান্তেই ডেকে আনছেন মারণ রোগ!

গরমের দাবদাহে শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং নিজেকে চনমনে করতে অনেকেই রুট বিয়ারের ওপর ভরসা রাখেন। কার্বনেটেড পানীয় হিসেবে এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। অনেকে ভুলবশত একে বিয়ার ভেবে এড়িয়ে চললেও, আদতে এতে কোনো অ্যালকোহল থাকে না। মূলত বিভিন্ন গাছের শিকড় এবং ভেষজ উপাদান দিয়ে তৈরি এই পানীয়টি ঐতিহাসিকভাবে উত্তর আমেরিকার আদিবাসীদের কাছে ছিল একটি উপকারী ঔষধি পানীয়। স্যাসাফ্রাস, উইন্টারগ্রিন এবং সরসপেরিলার মিশ্রণে তৈরি এই পানীয়টির স্বাদে অনন্য এক জাদু রয়েছে। তবে অ্যালকোহল নেই বলেই কি এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরটা কিন্তু অতটা সুখকর নয়।

রুট বিয়ারের চড়া মিষ্টি স্বাদের নেপথ্যে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় ‘ফ্রুকটোজ় কর্ন সিরাপ’। নিয়মিত এই পানীয় পানের অভ্যাস শরীরে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে খুব দ্রুত ডায়াবিটিস এবং ওবেসিটির ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া দাঁতের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে রুট বিয়ার একপ্রকার অভিশাপ। এতে থাকা অতিরিক্ত চিনি দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে, ফলে দাঁতের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায় এবং দাঁত দুর্বল হয়ে পড়ে।

রুট বিয়ারের আরও একটি বড় সমস্যা হলো এর উচ্চ ক্যাফিন মাত্রা। অত্যধিক ক্যাফিন গ্রহণের ফলে অনিদ্রা বা ইনসমনিয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব শরীরে হাজারো জটিলতা ডেকে আনে, যার ফলে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায় এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়টি হলো এর রঙ। রুট বিয়ারের আকর্ষণীয় বাদামি রঙের জন্য যে কৃত্রিম ‘ক্যারামেল কালার’ ব্যবহার করা হয়, তা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় ক্যানসারের ঝুঁকি পাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। শুধু তাই নয়, এই রঙের কারণে শরীরে রক্তচাপ বৃদ্ধি এবং শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই গরমে স্বস্তি খুঁজলেও, রুট বিয়ারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক ফলের রস বা ডাবের জলকে বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty