সিদ্দারামাইয়ার বিদায়লগ্ন চূড়ান্ত? আজই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ছাড়ছেন, পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কি ডিকে শিবকুমার?

কর্নাটকের রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ বিকেল ৩টে নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন সিদ্দারামাইয়া। আজ সকালে বেঙ্গালুরুতে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের নিয়ে এক প্রাতরাশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই রাজনৈতিক মহলে এই পরিবর্তনের খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। সূত্রের খবর, সিদ্দারামাইয়া এরই মধ্যে রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলটের কাছে সাক্ষাতের সময় চেয়েছেন, যা তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের বিষয়টিকে প্রায় নিশ্চিত করে তুলেছে।

কংগ্রেসের অন্দরমহলে দীর্ঘদিন ধরেই সিদ্দারামাইয়া ও ডিকে শিবকুমারের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে নানা চর্চা ছিল। প্রবীণ বিধায়ক অশোক কে পট্টন সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানিয়েছেন, “বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টের পর সিদ্দারামাইয়া ইস্তফা দিতে চলেছেন এবং ডিকে শিবকুমারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।” অপর এক বরিষ্ঠ কংগ্রেস বিধায়ক আর ভি দেশপান্ডেও এই সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। ২০২৩ সালে কংগ্রেস সরকার গঠনের সময় থেকেই এমন একটা সমঝোতা ছিল যে, মেয়াদের প্রথমার্ধ শেষে সিদ্দারামাইয়া ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। তবে এই মুহূর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সুরজেওয়ালা কোনো মন্তব্য না করলেও, কর্ণাটকের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে দ্রুত পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

চলতি সপ্তাহের গোড়াতেই দিল্লিতে রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে সিদ্দারামাইয়া এবং শিবকুমারের ম্যারাথন বৈঠক হয়েছিল। যদিও তখন দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে বৈঠকটি কেবল আসন্ন নির্বাচন সংক্রান্ত, কিন্তু বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ বলছে—নেতৃত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। আজ সকাল থেকেই ডিকে শিবকুমারের বাসভবনের সামনে সমর্থকদের ভিড় উপচে পড়ছে এবং কর্ণাটকের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর সমর্থকরা আগাম উদযাপনে মেতে উঠেছেন।

সিদ্দারামাইয়া অতীতে একাধিকবার সরকার পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করবে বলে দাবি করলেও, বর্তমান পরিস্থিতি বলছে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড রাজ্য প্রশাসনের ভাবমূর্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই পরিবর্তনকে আবশ্যিক বলে মনে করছে। বিকেল ৩টের রাজভবনের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে পুরো দেশ। ডিকে শিবকুমার কর্ণাটকের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে, তা দক্ষিণের রাজনীতিতে কংগ্রেসের নতুন কৌশলের এক বড় প্রতিফলন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy