কর্নাটকের রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনা। গত কয়েক দিন ধরে চলা জল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। সব মহলের নজর এখন রাজভবনের দিকে। বুধবার রাত থেকেই সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, বৃহস্পতিবারই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন তিনি। তবে এই ইস্তফা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত সাংবিধানিক জটিলতা।
রাজ্যপাল থাওয়ার চাঁদ গেহলট এই মুহূর্তে কর্নাটকে নেই। জানা গেছে, গত রাত গভীর রাতে তিনি মুম্বই গিয়েছেন এবং সেখান থেকে ইন্দোরে রওনা দিয়েছেন। তাঁর পরিবারের একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় অসুস্থ থাকায় এই সফর করতে হয়েছে তাঁকে। প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যপাল রাজ্যে উপস্থিত না থাকলে সিদ্দারামাইয়া কীভাবে পদত্যাগ করবেন?
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী চাইলে যেকোনো সময় তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। সাধারণত, আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখতে রাজ্যপালের উপস্থিতিতে রাজভবনে গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেওয়াই প্রথা। তবে রাজ্যপাল শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া অসম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সচিবালয়ের মাধ্যমে রাজ্যপালের সচিবের কাছে ইস্তফাপত্র পৌঁছে দিতে পারেন। রাজ্যপাল সেই পত্র গ্রহণ করলে তবেই পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে সিদ্দারামাইয়া রাজভবনে পৌঁছাতে পারেন। রাজ্যপাল শহরে না থাকায় তিনি তাঁর সচিবের হাতেই পদত্যাগপত্র তুলে দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। দিল্লির রাজনৈতিক মহলের দাবি, সন্ধ্যার মধ্যেই সিদ্দারামাইয়া দিল্লি রওনা দিতে পারেন। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের পরই এই বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। গত ২৬ মে দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রায় সাত ঘণ্টার এক ম্যারাথন বৈঠক করেন সিদ্দারামাইয়া। সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পরামর্শ মেনেই তিনি পদত্যাগে সম্মতি দিয়েছেন। বিনিময়ে তাঁকে রাজ্যসভার আসন ও তাঁর ছেলেকে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সরকারিভাবে এখনও কোনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। পুরো পরিস্থিতি এখন সিদ্দারামাইয়ার পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায়।





