উত্তরাখণ্ডের পর এবার অসম। ইউনিফর্ম সিভিল কোড (Uniform Civil Code বা UCC) নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার আবহে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল অসম সরকার। এবার অসমেও পাস হয়ে গেল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড। এর ফলে রাজ্যের সমস্ত নাগরিকের জন্য ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন একই ছাতার তলায় আসার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
কী কী পরিবর্তন আসছে? এই নতুন আইনের ফলে রাজ্যের ব্যক্তিগত আইনের বিভিন্ন স্তরে আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে। আইনের মূল বিষয়গুলো হলো:
বিয়ের নিয়ম: ধর্ম বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে বিয়ের নিবন্ধন এবার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একাধিক বিয়ের প্রথা বিলুপ্তির পথ প্রশস্ত হয়েছে।
লিভ-ইন রিলেশনশিপ: দেশের মধ্যে প্রথম সারির রাজ্য হিসেবে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা ব্যক্তিদের এবার সেই সম্পর্কের কথা সরকারিভাবে নথিভুক্ত (Register) করতে হবে। এটি না করলে আইনি জটিলতার মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার: বিবাহবিচ্ছেদ এবং সম্পত্তি উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমানাধিকারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সবাই এক আইনের আওতায়: ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে এবার থেকে অভিন্ন নিয়ম মেনে চলতে হবে নাগরিকদের।
হিমন্ত সরকারের লক্ষ্য: মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শুরু থেকেই এই আইনের পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন। সরকারের দাবি, এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো সামাজিকভাবে বৈষম্য দূর করা এবং আধুনিক ও প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তোলা। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিভাজন মুছে ফেলে একটি সুসংহত আইনি কাঠামো তৈরি করাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।
প্রতিক্রিয়া: ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ একে নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতিনীতির ওপর আঘাত বলে দাবি করলেও, সরকারি মহলের দাবি—ভারতের সংবিধানের নির্দেশক নীতি মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অসমে এই আইন কার্যকর হওয়ার ফলে দেশের অন্যান্য রাজ্যও কি এবার ইউসিসি পাসের পথে হাঁটা দেবে? উত্তর দেবে সময়। তবে আপাতত অসমের এই সিদ্ধান্ত যে জাতীয় রাজনীতিতে এক বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।





