বকরি ঈদ নিয়ে বিস্ফোরক বার্তা পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর: ‘আইন সবার জন্য সমান হোক’!

বকরি ঈদের ঠিক প্রাক্কালে রাজ্যে কুরবানি এবং গো-হত্যা সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। এই পরিস্থিতিতে ফুরফুরা শরীফের প্রভাবশালী পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী এক স্পষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ বার্তা দিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। সরকারি বিধিনিষেধ এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তিনি জানিয়েছেন, “আমরা আইন মেনে চলব। আদালতের নির্দেশ মাথা পেতে নিয়েছি। কিন্তু আইন সবার জন্য সমান হতে হবে—হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান সবার জন্যই।”

সম্প্রতি রাজ্য সরকার ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যানিমাল স্লটার কন্ট্রোল অ্যাক্ট, ১৯৫০’ কঠোরভাবে প্রয়োগ করার নির্দেশ জারি করেছে। এই নতুন নির্দেশে গরু, বলদ, বাছুর বা মহিষ কুরবানির আগে সরকারি সার্টিফিকেট নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হলে আদালত এই নির্দেশিকায় কোনোপ্রকার হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, গো-কুরবানি ঈদের অপরিহার্য অংশ নয়।

এই প্রেক্ষাপটে পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “আইন মেনে চলাই আমাদের লক্ষ্য, কিন্তু সেই আইন যেন একজনের জন্য একরকম আর অন্যজনের জন্য আরেকরকম না হয়।” তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই সব ধর্মের মানুষের জন্যই আইন সমানভাবে কার্যকর হোক।” একইসঙ্গে, রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন যে, গত বছরগুলোর মতোই শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করতে হবে। অশান্তি এড়াতে তিনি গো-কুরবানি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

ফুরফুরা শরীফের মতো একটি প্রভাবশালী দরগার পীরজাদার এই অবস্থান রাজ্যের মুসলিম সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় মুসলিমদের মতে, “পীরজাদা যা বলছেন, তা মেনে চললেই সমাজে শান্তি বজায় থাকবে। আমরা তো শান্তিতেই ঈদ করতে চাই। গরুর বদলে ছাগল বা অন্য পশু দিয়ে কুরবানি সম্পন্ন করাই শ্রেয়।” অনেকেই মনে করছেন, পীরজাদার এই আহ্বান একদিকে যেমন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করবে, অন্যদিকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাতেও সাহায্য করবে।

অন্যদিকে, হিন্দু সমাজের একাংশও এই মন্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের গো-রক্ষা সংক্রান্ত সংবেদনশীলতা এবার নতুন সরকারের কড়া অবস্থানের কারণে মিটতে পারে। তবে কিছু মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মীয় আবেগের জায়গায় আইনের সমান প্রয়োগ কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব?

রাজ্যে নতুন সরকারের নেতৃত্বে এটিই প্রথম বকরি ঈদ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আইন লঙ্ঘন করলে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। সীমান্তবর্তী এলাকা ও গ্রামীণ অঞ্চলে পুলিশ ও প্রশাসনের টহলদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। পশু হাটগুলোতেও রাখা হয়েছে কড়া নজরদারি। সব মিলিয়ে প্রশাসন ও প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের এই অবস্থান ঈদ পালনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy