মডেল-অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মার অকাল মৃত্যুতে এবার সরব কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সম্প্রতি সিবিআই যে এফআইআর রুজু করেছে, তাতে প্রাক্তন বিচারক তথা ত্বিষার শ্বাশুড়ি গিরিবালা সিং এবং স্বামী সমর্থ সিংয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পণের দাবিতে নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে শোরগোল পড়েছে।
প্রধান অভিযোগ ও পণের দাবি: সিবিআই-এর এফআইআর অনুযায়ী, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ত্বিষা ও সমর্থের বিয়ের বিদাই অনুষ্ঠানে গিরিবালা সিং ত্বিষার পরিবারের কাছে ২ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, সেই টাকা দেওয়া সত্ত্বেও ত্বিষার ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার থামেনি। শ্বাশুড়ি ও স্বামী—উভয়ের বিরুদ্ধেই পণের জন্য হেনস্থার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্বামীর বিস্ফোরক দাবি: তদন্তকারীদের জেরায় স্বামী সমর্থ সিং বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে:
সম্পর্কের টানাপোড়েন: বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছেছিল। প্রায়ই তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হতো।
গর্ভপাত: সমর্থ দাবি করেছেন, তিনি সন্তান চাইলেও ত্বিষা তা চাননি। তাঁর দাবি, ত্বিষা জোর করে গর্ভপাত করিয়েছেন। যদিও এই দাবির প্রেক্ষিতে তদন্তকারীরা ত্বিষার কিছু হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ খতিয়ে দেখছেন, যেখানে সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে সমর্থের সন্দেহ প্রকাশের ইঙ্গিত রয়েছে।
মানসিক স্বাস্থ্য: সমর্থকদের দাবি, ত্বিষা ‘বাইপোলার ডিজ়অর্ডার’-এ ভুগছিলেন এবং এর জন্য তাঁকে চিকিৎসকের কাছেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি: ত্বিষার মৃত্যুর পর সমর্থ ১০ দিন পলাতক ছিলেন, পরবর্তীতে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার এখন সিবিআই-এর হাতে। স্বামী ও শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি উঠেছে, তা প্রমাণিত হলে এটি একটি বড় আইনি জটিলতার দিকে গড়াতে পারে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।
তদন্তকারী সংস্থা এখন হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ ও কল লিস্টের মতো ডিজিটাল তথ্যের ওপর নির্ভর করে সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ এবং স্বামীর বয়ানের মধ্যে যে বিস্তর ফারাক, তা সিবিআই কীভাবে মেলায়, সেদিকেই নজর সকলের।





