বিনোদন জগতে আবারও এক অন্ধকার অধ্যায় প্রকাশ্যে এল। আসন্ন বড় বাজেটের ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর প্রোডাকশন ডিজাইনার জন জোসেফ ওরফে জোয়েলের বিরুদ্ধে উঠল ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ। এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে চণ্ডীগড়ের সেক্টর-১৭ থানায় দায়ের হয়েছে এফআইআর। এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গেছে চলচ্চিত্র মহলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত জন জোসেফের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ৭৪ (যৌন নির্যাতন), ৭৯ (নারীর শালীনতা হানি), ১২৩ এবং ১২৬(২)-এর আওতায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগকারিণীর বয়ান অনুযায়ী, তিনি চণ্ডীগড়ের সেক্টর-১০-এর গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্টের প্রাক্তন ছাত্রী। ২০২৫ সালে এক শিক্ষকের মাধ্যমে তিনি ‘ধুরন্ধর’ টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২ সেপ্টেম্বর তিনি সহকারী শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজে যোগ দেন। জোয়েল নিজেকে তাঁর মেন্টর বা পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
তরুণীর অভিযোগ, কাজে যোগ দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ১০ সেপ্টেম্বর রাতে কাজের আলোচনার অজুহাতে তাঁকে সেক্টর-১৭-এর একটি হোটেলে ডাকা হয়। তিনি ভেবেছিলেন এটি একটি দলীয় বৈঠক, কিন্তু হোটেলে গিয়ে দেখেন সেখানে কেউ নেই। সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত তাঁকে মদ্যপানে জোরাজুরি করেন। অভিযোগ, পানীয় পানের কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মাথা ঘোরার মতো অসুস্থতা বোধ করতে শুরু করেন, যা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় তাঁর পানীয়তে নেশাজাতীয় কিছু মেশানো হয়েছিল।
অসহায় অবস্থায় নাচের মুদ্রা শেখানোর নাম করে অভিযুক্ত তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ শুরু করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে জোয়েল তাঁকে বাধা দেন এবং মারধর করেন। এরপর অভিযুক্ত তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত শেষে ২১ এপ্রিল এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। যদিও চণ্ডীগড় আদালত পরবর্তীতে অভিযুক্তকে জামিন মঞ্জুর করেছেন, তবে এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় ‘ধুরন্ধর’ ছবির পুরো টিম এখন প্রশ্নের মুখে।





