রাজস্থানের কোটা নিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একের পর এক গর্ভবতী মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল। ঘটনার তদন্তে নেমে স্বাস্থ্য দপ্তর ও ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ হাসপাতালে ব্যবহৃত ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠিয়েছিল। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসতেই চক্ষু চড়কগাছ স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, গর্ভবতী মহিলাদের দেওয়া অক্সিটোসিন ইনজেকশনগুলো গুণগত মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ড্রাগ কন্ট্রোল কমিশনারেটের ল্যাব রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই ইনজেকশনগুলোতে কার্যত অক্সিটোসিনের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরই রাজ্যজুড়ে ওই নির্দিষ্ট ব্যাচের ওষুধের কেনাবেচা ও ব্যবহারের ওপর অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
জানা গিয়েছে, অমৃতসর-ভিত্তিক একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা এই ইনজেকশনগুলো সরবরাহ করেছিল। রাজস্থানের ড্রাগ কন্ট্রোলার অজয় পাঠক জানিয়েছেন, ল্যাব পরীক্ষায় ওষুধের মান নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ার পর আরএমএসসিএল (RMSCL)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ওই সন্দেহজনক ব্যাচের ওষুধের সরবরাহ ও বিতরণ অবিলম্বে বন্ধ করা হয়। সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে বেসরকারি ওষুধের দোকান—সর্বত্রই এই নির্দেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও কোটার হাসপাতালে মৃত গর্ভবতী মহিলাদের শরীরে ঠিক এই ইনজেকশনটিই প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখনও সরাসরি মন্তব্য করেনি স্বাস্থ্য দপ্তর। আধিকারিকদের দাবি, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
সম্প্রতি কোটা নিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগে অস্ত্রোপচারের পর একাধিক গর্ভবতী মহিলার মৃত্যু ঘটে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দেয়। এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে কোটা ও বুন্দির ড্রাগ কন্ট্রোল কর্মকর্তারা হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকান থেকে ৩০টিরও বেশি ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করেন। এখন পর্যন্ত ২১টি ওষুধের নমুনা নিরাপদ বলে প্রমাণিত হলেও, বাকিগুলোর রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে দপ্তর।
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে ওষুধের সরবরাহ শৃঙ্খল এবং গুণমান যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে। কীভাবে এমন নিম্নমানের ওষুধ সরকারি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রবেশ করল এবং হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোগীদের সুরক্ষার বিষয়ে কোনো রকম আপস করা হবে না। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সরবরাহকারী সংস্থাটির বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা প্রবল। রাজ্যজুড়ে এই ঘটনায় ছড়িয়েছে তীব্র উত্তেজনা এবং আতঙ্ক।





