আর্থিক তছরুপ এবং সরকারি সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। সোমবার রাতে পুলিশ তাঁকে আটক করার পর আজ, মঙ্গলবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।
কীভাবে ফাঁস হলো দুর্নীতি? রবিবার গভীর রাতে বাদুড়িয়া পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের বাড়ির সংলগ্ন পার্টি অফিস এবং একটি নির্জন বাগানবাড়িতে আচমকাই তৎপরতা দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, চেয়ারম্যান ও তাঁর অনুগামীরা ভ্যানে করে বহু সরকারি ত্রিপল ও লাঠি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এমনকি পার্টি অফিসের সামনে বান্ডিল বান্ডিল নথি পুড়িয়ে ফেলা হয়। এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।
উদ্ধার ৮৮ লক্ষ টাকা: ঘটনার খবর পেয়ে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ তল্লাশিতে নামে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এরপর তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রিপল ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করে। এর পাশাপাশি, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশের কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার—যার চাবি সরাসরি দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের কাছে থাকত—সেখান থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৮০ লক্ষ নগদ টাকা।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: এই ঘটনার পরপরই বিজেপির পক্ষ থেকে বাদুড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ, দুর্নীতির প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই রাতের অন্ধকারে নথি পোড়ানো এবং সরকারি সামগ্রী সরানো হচ্ছিল। পুরসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চেয়ারম্যানের সরাসরি মদতে এত বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসায় স্থানীয় রাজনীতিতে প্রবল অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
পুরসভার চেয়ারম্যানের মতো দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকে সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ এবং গ্রেপ্তারের ঘটনায় এখন প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়েছে। আদালত আজ এই বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর সবার।





