অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং লুকোচুরির পর সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত এই বিডিওকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করল পুলিশ। গ্রেফতারির মুহূর্তের একটি ভিডিও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে পুলিশি হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও প্রশান্ত বর্মণের বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই; বরং তিনি আঙুল উঁচিয়ে পুলিশকে শাসানি দিচ্ছেন। তাঁর এই উদ্ধত আচরণে ফের একবার চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের বাসিন্দা স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা গত বছর ২৯ অক্টোবর নিখোঁজ হয়ে যান। সেইদিনই নিউটাউনের যাত্রাগাছির খালপাড় থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবার সূত্রে অভিযোগ, দত্তাবাদের দোকান থেকে স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ করে খুন করেছেন বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। ঘটনার পর থেকেই মৃতের পরিবার তাঁকে প্রধান অভিযুক্ত করে সোচ্চার হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর প্রশাসনের তরফে তাঁকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আইনি জটিলতা ও সুপ্রিম কোর্টের তোপ
এই খুনের মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা নেয়। কিন্তু প্রশান্ত বর্মণ লাগাতার ফেরার ছিলেন। বিধাননগর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। এমনকি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষও তাঁকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান তিনি। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষণইয়ের বেঞ্চ তাঁকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণের কড়া নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টেও তিনি কোনো স্বস্তি না পেয়ে উল্টো আইনি চাপে পড়েন।
গ্রেফতারির নাটকীয় মোড়
সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকোপার্ক থানা এলাকায় এক পথচারীকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা মারার অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়। এরপরই খুনের মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করে ইকোপার্ক থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, খুনের পাশাপাশি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও মারধরের একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আজ বারাসত আদালতে তাঁকে তোলা হবে। এত বড় একটি অপরাধে নাম জড়ানোর পরেও বিডিও-র এই ধরনের আচরণ নিয়ে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এখন আদালতে তিনি কোন কৌশল অবলম্বন করেন এবং তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বেরিয়ে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।





