দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্যের জেরে বর্তমানে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। সম্প্রতি একটি মামলার শুনানির সময় তরুণ প্রজন্মের একাংশকে ‘তেলাপোকা’ (Cockroach) এবং ‘পরজীবী’ (Parasites) বলে সম্বোধন করেছিলেন তিনি। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ইন্টারনেটে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (CJP) নামক একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন। যা শুরু হয়েছিল স্রেফ একটি মিম হিসেবে, তা বর্তমানে যুবসমাজের ক্ষোভ প্রকাশের এক শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
যদিও প্রধান বিচারপতি পরে ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর ওই মন্তব্য সাধারণ তরুণদের উদ্দেশ্যে ছিল না, বরং যারা ‘ভুয়ো ডিগ্রি’ নিয়ে জালিয়াতি করছে, তাদের লক্ষ্য করেই এই শব্দপ্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে নেটনাগরিকরা সেই সাফাই মানতে নারাজ। এই আন্দোলনের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে ফলোয়ার সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৯০ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে, যা ভারতের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল—বিজেপি ও কংগ্রেসের সম্মিলিত ফলোয়ার সংখ্যাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। #MainBhiCockroach হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে এখন দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার দাবিতে সরব হয়েছে যুবপ্রজন্ম।
শনিবার এই বিতর্ক সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলা সুপ্রিম কোর্টে দ্রুত শুনানির জন্য উত্থাপিত হয়। আইনজীবী এন কে গোস্বামী আদালতে দাবি করেন যে, প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইন্টারনেটে একপাক্ষিক ‘বিকৃত ও বিদ্বেষমূলক’ প্রচার চালানো হচ্ছে। সেই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “এটিকে এতো আবেগ দিয়ে দেখবেন না।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আদালতে করা কোনো মন্তব্য নিয়ে ইন্টারনেটে যে শোরগোল শুরু হয়েছে, তাতে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই। নিয়ম মেনেই এই মামলার শুনানি হবে।
আবেদনে আদালতের বিচারকদের মৌখিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অনলাইনে মনিটাইজেশন বন্ধ করার পাশাপাশি ‘ভুয়ো আইনজীবী’দের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে। মূলত, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভই এখন ‘সিজেপি’ আন্দোলনের মোড়কে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের বিরুদ্ধে আছড়ে পড়ছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের অবস্থান এবং ডিজিটাল প্রজন্মের এই প্রতিবাদের সংঘাত এখন কোন পথে এগোয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।





