মহারাষ্ট্রে কাজে গিয়ে প্রাণ হারালেন মাত্র ১৮ বছরের এক পরিযায়ী শ্রমিক। মৃত যুবকের নাম রবি সরকার। তিনি নদিয়া জেলার তাহেরপুর থানার অন্তর্গত ভাদুড়ি পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। রবিকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তাঁর পরিবার। পরিবারের দাবি ও আবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কল্যাণী এইমস হাসপাতালে যুবকের মৃতদেহের পুনরায় ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। স্থানীয় দুই দালাল সুমন দেবনাথ এবং রাখাল দেবনাথের মাধ্যমে রবি ও অন্য এক যুবক মহারাষ্ট্রের আলিবাগে কাজের সন্ধানে যান। তাঁদের যাতায়াতের খরচ এবং ট্রেনের টিকিটও ওই দালালরাই বহন করেছিলেন। আলিবাগে পৌঁছে রবি একটি ফাস্টফুড সেন্টারে কাজে যোগ দেন। কিন্তু রবির সঙ্গে যাওয়া অপর যুবক কিছুদিন পরেই সেখান থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। রবির পরিবারের অভিযোগ, এরপরই রবি ফোনে তাঁর মাকে জানান, তিনিও আর সেখানে থাকতে চান না, অবিলম্বে বাড়ি ফিরতে চান। তিনি তাঁর মাকে টাকা পাঠানোর অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু দোকানের মালিক তাঁকে বাধা দেয় এবং জানায়, অন্তত এক মাস কাজ করার পরই তিনি মাইনেসহ রবিকে বাড়ি পাঠাবেন।
হঠাৎ তিনদিন আগে রবির মায়ের কাছে মালিকের ফোন আসে। মালিক দাবি করে, রবি আত্মহত্যা করেছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রবির পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে শোকের পাশাপাশি দানা বাঁধে তীব্র সন্দেহ। পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, রবিকে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মর্মে রবির মা দেবী বিশ্বাস তাহেরপুর থানায় অভিযুক্ত দুই দালাল সুমন ও রাখাল দেবনাথের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি তিনি ছেলের মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে পুনরায় ময়নাতদন্তের দাবি জানান।
তদন্তের স্বার্থে মহারাষ্ট্র থেকে প্রশাসনের সহযোগিতায় রবির দেহ তাহেরপুরে ফিরিয়ে আনা হয়। রানাঘাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার আশিস মৈত্রেয় জানিয়েছেন, “পরিবারের অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কল্যাণী এইমস-এ পুনরায় ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রিপোর্ট এলে মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।”
রবির আত্মীয় অংশু গোয়ালীর কথায়, “যে ছেলে একদিন আগেও সুস্থ স্বাভাবিকভাবে কথা বলল, তার পরের দিনই মৃত্যুর খবর এল—এটা মানা কঠিন। তাকে কাজের জায়গায় আটকে রাখা হয়েছিল এবং চাপের মুখে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল সে। আমরা চাই দোষীদের কঠোর সাজা হোক।” এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা পরিবার ও পুলিশ প্রশাসন।





