রবিবার ভোরবেলা মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার মহাবালেশ্বর-পোলাদপুর সড়কে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। পর্যটকবোঝাই একটি স্করপিও গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ১০০০ ফুট গভীর এক গিরিখাতে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হলো ৮ জন পর্যটকের। এই ভয়াবহ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পর্যটকরা দাপোলি থেকে সাতারা অভিমুখে যাত্রা করছিলেন। রবিবার ভোর প্রায় পাঁচটা নাগাদ পোলাদপুর এলাকার আম্বেনালি ঘাট দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ গাড়িটি চালকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এবং সবকটি মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন আত্মীয়রা পুলিশের দ্বারস্থ হন। সোমবার সকালে পুলিশি তল্লাশি অভিযানে বের হয়ে আম্বেনালি ঘাটের কাছে ১০০০ ফুট গভীর খাদে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটি দেখতে পান উদ্ধারকারীরা।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পাহাড়ের বাঁক নেওয়ার সময় চালক গাড়ির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, যার ফলেই এই বিপত্তি। খবর পাওয়ার পর থেকেই মহাবালেশ্বর ট্রেকার্স, প্রতাপগড় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। স্থানীয় গ্রামবাসীরাও প্রশাসনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উদ্ধার অভিযানে নেমেছেন। সোমবার পর্যন্ত দু’টি মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকিদের উদ্ধারের কাজ এখনও জোরকদমে চলছে।
দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রিতেশ লোখান্ডে (২২), সুহাস লোখান্ডে (২০), উৎকর্ষ শিংতে (২১), নিখিল শিংতে (২৫), মহেশ পাওয়ার (২৫), আদিত্য সালুংখে (২১) এবং রাজেশ কাটকর (৩৫)—তাঁরা সকলেই সাতারা জেলার কোরেগাঁও তালুকের আসগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়াও রত্নগিরি জেলার ১৯ বছর বয়সী অংশ চভান এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে মহারাষ্ট্রে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পাহাড়ের দুর্গম পথে নিয়মিত এমন দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয়রা সুরক্ষার কড়াকড়ির দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের তরফে মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং উদ্ধার কাজে গতি আনতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।





