কর্নাটকের লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষের জন্য এল এক ঐতিহাসিক দিন। শনিবার রাজ্য সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি একলাফে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশির হাওয়া বইছে শ্রমজীবী মহলে। শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ লাড আনুষ্ঠানিকভাবে এই মজুরি বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করে জানিয়েছেন, সংশোধিত এই নতুন কাঠামো অনুযায়ী এখন শ্রমিকরা ন্যূনতম মাসিক ২৩,৩৭৬ টাকা মজুরি পাবেন।
এই মজুরি বৃদ্ধি শুধুমাত্র সংগঠিত খাতেই নয়, বরং অসংগঠিত খাতের লক্ষ লক্ষ কর্মীদের জন্যও এক বিশাল আর্থিক সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে। শ্রমমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই নতুন কাঠামো ৮১টি নির্দিষ্ট পেশায় নিযুক্ত কয়েক লক্ষ শ্রমিককে সরাসরি উপকৃত করবে। উল্লেখ্য, এতদিন ধরে যে চার-শ্রেণির জটিল বেতন কাঠামো চালু ছিল, তা বাতিল করে রাজ্য সরকার এবার একক বিজ্ঞপ্তি ব্যবস্থা (Single Notification System) প্রয়োগ করেছে। এর ফলে বেতন কাঠামোতে যেমন স্বচ্ছতা আসবে, তেমনই কর্মীদের দীর্ঘদিনের একটি বড় দাবি পূরণ হবে।
নতুন এই সংশোধিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুর মতো মেট্রো শহরের দক্ষ শ্রমিকরা মাসে ৩১,১১৪ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার অধিকারী হবেন। অন্যদিকে, রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তে কাজের ধরন ও অঞ্চলের ভিত্তিতে মজুরির হার ১৯,৩০০ টাকা থেকে ২১,২৫১ টাকার মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে। শ্রমমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়েছেন, এই মজুরি বৃদ্ধির পুরো প্রক্রিয়াটি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের কঠোর নির্দেশিকা মেনেই করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমারের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার পূর্ণ সমর্থনে এই প্রস্তাবটি কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে। শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ লাড এই সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রিসভার সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে রাজ্যের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মুদ্রাস্ফীতির বাজারে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং শ্রমজীবী সম্প্রদায়ের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য এই ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধিকে অনেকেই ‘দিওয়ালির আগেই উপহার’ বলে অভিহিত করছেন।





