পাকিস্তানের মাটিতেই খতম মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী, পাক সেনার চোখের সামনেই ঘটল রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড!

পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসবাদীদের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছেন অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা। একের পর এক কুখ্যাত সন্ত্রাসীর রহস্যজনক মৃত্যুতে কাঁপছে পাকিস্তান। লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজা থেকে হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার সাজ্জাদ আহমেদ—তালিকাটা দীর্ঘ হচ্ছে। এই ধারবাহিকতায় নতুন সংযোজন আল বদর কমান্ডার বুরহান হামজা ওরফে আরজমন্দ গুলজার। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের মুজাফফারাবাদে নিজ বাসভবনের সামনেই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী।

চলতি বছরে পাকিস্তানে অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে অন্তত পাঁচজন শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে, যা ২০২৩ সালের সাতজনের মৃত্যুর পরিসংখ্যানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। তবে এই প্রথম কোনো বড় সাফল্য পেল পাক পুলিশ। মুজাফফারাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, বুরহান হামজার হত্যাকারী হিসেবে ২০ বছর বয়সী রাওয়ালপিন্ডির এক স্থানীয় যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। হামলাকারী বুরহানকে হত্যার পরিকল্পনা করে তিন দিন আগে থেকেই মুজাফফারাবাদের একটি হোটেলে আস্তানা গেড়েছিল। ঘটনার আগে সে অন্তত দুবার বুরহানের বাড়ির চারপাশ রেকি করে। হামলার দিন, যখন বুরহান বাড়িতেই এক অতিথির সঙ্গে দেখা করছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই হামলাকারী অতর্কিতে গুলি চালায়। পাক সেনার সুরক্ষা বলয় থাকার পরেও কীভাবে এই হামলা সম্ভব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও হামলাকারী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহসিকতায় সে হাতেনাতে ধরা পড়ে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ধৃত ব্যক্তির কোনো পূর্ব অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, যা থেকে এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘টার্গেট কিলিং’ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার রত্নিপোরা এলাকার বাসিন্দা বুরহান হামজা ২০১৯ সালে জাল বা বৈধ নথির আড়ালে পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে সে মুজাফফারাবাদের একটি মাদ্রাসার প্রধানের আড়ালে নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করছিল। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২২ সালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং সে ছিল ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়। তার মূল কাজ ছিল দক্ষিণ কাশ্মীরে সন্ত্রাস ছড়ানো, যুবকদের মগজ ধোলাই করে দলে ভেড়ানো এবং সন্ত্রাসবাদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা। তার সুরক্ষার জন্য পাক সেনা দুজনকে মোতায়েন করেও শেষ রক্ষা করতে পারল না। এই ঘটনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে তাদের ভূমিকার ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy