নেটদুনিয়ায় কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক ইস্যুতে মন্তব্য করার আগে তারকাদের যে কতটা ভেবেচিন্তে পা ফেলা উচিত, তার প্রমাণ মিলল আরও একবার। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা মামলাকে কেন্দ্র করে এবার বড়সড় আইনি বিপাকে জড়ালেন টলিউডের দুই প্রথম সারির অভিনেতা— পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chatterjee) এবং স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee)। বেশ কয়েক বছর আগের পুরনো ফেসবুক ও এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টের জেরে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক তরজা।
কী ঘটেছিল ২০২১ সালে? কেন এই বিতর্ক?
২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় নেটপাড়ায় শাসক ও বিরোধী দুই শিবিরের তরফেই তীব্র বাদানুবাদ চলে। টলিউডের তারকাদের একটা বড় অংশও এই বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
অভিযোগ, সেই উত্তাল আবহে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় তাঁর একটি পোস্টে ‘রগড়ানি দিবস’ (বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের তৎকালীন এক মন্তব্যের পাল্টা কটাক্ষ) এবং পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ‘হোক হোক’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছিলেন। এই পোস্টগুলিকেই এবার হিংসায় উসকানি এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মনোভাবকে প্রশ্রয় দেওয়ার অস্ত্র হিসেবে দেখছেন মামলাকারীরা।
আইনি বিপাকে দুই তারকা: ঠিক কী অভিযোগ?
ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার তদন্তের রেশ ধরেই এবার এই দুই টলি-তারকার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন একাংশ। মামলাকারীদের দাবি:
হিংসায় পরোক্ষ উসকানি: তারকাদের লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার্স থাকেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তাঁদের করা এই ধরনের মন্তব্য বা ‘স্লোগান’ তৎকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের আবেগ ও ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
তদন্তের আওতায় সোশ্যাল মিডিয়া: আদালত ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যেখানে ওই সময়কালের সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখছে, সেখানে এই বিশিষ্টজনদের অ্যাকাউন্টের গতিবিধি এবং পোস্টের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য আইনি নোটিশের দাবি তোলা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া: বিজেপির পক্ষ থেকে এই নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, “বাংলার বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীদের একাংশ নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আসলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে চান। আজ আইনের মুখে দাঁড়িয়ে তাঁদের জবাব দিতেই হবে।” অন্যদিকে, বাম ও তৃণমূলপন্থী ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, শিল্পীদের বাকস্বাধীনতা ও পুরনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার চেষ্টা চলছে।
নীরবতা ভাঙবেন পরমব্রত-স্বস্তিকা?
পরমব্রত ও স্বস্তিকা— দুজনেই সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন হিসেবে পরিচিত এবং যেকোনো অন্যায় বা সামাজিক ইস্যুতে বরাবরই সোচ্চার। তবে এই সাম্প্রতিক আইনি জট এবং মামলার কেন্দ্রে চলে আসা নিয়ে এখনও পর্যন্ত দুই তারকার তরফ থেকে অফিশিয়ালি কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পুরনো সামাজিক মাধ্যমের পোস্টের জেরে তৈরি হওয়া এই নয়া বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোনো আইনি মোড় নেয়, নাকি নিছকই রাজনৈতিক তরজা হিসেবে থিতিয়ে যায়— এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।





