‘ঈদে গোহত্যা অপরিহার্য ধর্মীয় আচরণ নয়!’ বড় মামলায় নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট, জানুন বিস্তারিত!

কুরবানি ঈদের আগে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল মামলায় বড় রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যে পশুবলি এবং বিশেষ করে গোহত্যার ওপর জারি থাকা আইনি নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল রাখল উচ্চ আদালত। একটি মামলার শুনানিতে মহামান্য আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী ঈদে ‘গোহত্যা’ কোনো অপরিহার্য বা বাধ্যতামূলক ধর্মীয় আচরণ নয়। ফলে আইন মেনে এই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বজায় থাকবে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন কোরবানি ঈদে পশুবলি এবং গোহত্যা সংক্রান্ত আইন প্রয়োগের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। পূর্ববর্তী বিভিন্ন আইনি নির্দেশিকা এবং সুপ্রিম কোর্টের নজির টেনে এনে এই মামলার শুনানি হয়।

মামলার শুনানির পর মাননীয় বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে জানান যে, ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দেওয়া হলেও, তা জনশৃঙ্খল, নৈতিকতা এবং স্বাস্থ্যের সুরক্ষার অধীন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আগের রায়গুলির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে, কুরবানি ঈদে গোহত্যা করা ধর্মীয় রীতির কোনো অপরিহার্য অংশ (Essential Religious Practice) হতে পারে না।

রাজ্য সরকারকে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

আইনের শাসন বজায় রাখতে এবং উৎসবের দিনগুলিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশকে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট:

  • অবৈধ গোহত্যা বন্ধে নজরদারি: রাজ্য জুড়ে কোথাও যাতে বেআইনিভাবে বা প্রকাশ্য স্থানে গোহত্যা না হয়, তার জন্য কড়া পুলিশি নজরদারি চালাতে হবে।

  • পশু পরিবহন আইন মানতে হবে: এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বা ভিন রাজ্য থেকে বেআইনিভাবে গোহত্যার উদ্দেশ্যে গবাদি পশু পরিবহনের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

  • লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানা: যদি কোথাও আইনি নিয়ম মেনে পশুবলির অনুমতি থাকেও, তবে তা নির্দিষ্ট এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানার (Slaughterhouse) ভেতরেই করতে হবে। কোনোভাবেই তা সাধারণ মানুষের চোখের সামনে বা জনসমক্ষে করা যাবে না।

সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া

হাইকোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়ের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে। একাংশের মতে, আদালতের এই রায়ের ফলে পশুর ওপর নিষ্ঠুরতা কমবে এবং পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় থাকবে। আইনজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের পুরনো রায়কে ভিত্তি করেই হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্ত বজায় রেখেছে, যা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক হবে। প্রশাসনও আদালতের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার জন্য তৎপরতা শুরু করেছে।

রাজ্য এবং দেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি রায় ও ব্রেকিং নিউজের লেটেস্ট আপডেট সবার আগে পেতে এখনই ফলো করুন ডেইলিয়ান্ট!

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy