১৩ বছরের অপেক্ষার অবসান! চলতি বছরেই কি হচ্ছে হাওড়া পুরভোট? মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই মেগা ঘোষণা শুভেন্দুর!

২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতায় বড়সড় রদবদলের পর এবার রাজ্যের অন্যতম বড় কর্পোরেশনে ভোটের দামামা বাজিয়ে দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে যে হাওড়া পুরনিগমে (HMC) কোনো গণতান্ত্রিক ভোট হয়নি, এবার সেই অচলবস্থা কাটতে চলেছে। বৃহস্পতিবার হাওড়ার হাইপ্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এক ঐতিহাসিক মেগা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন— সব আইনি জট কেটে গেছে, চলতি বছরেই অর্থাৎ ২০২৬ সালেই সম্পন্ন হবে হাওড়া পুরনিগমের বহু প্রতীক্ষিত সাধারণ নির্বাচন!

দীর্ঘ ১৩ বছরের ‘ভোট-বনবাস’ কাটছে হাওড়ার

হাওড়া পুরসভার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, শেষবার এখানে নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। এরপর ২০১৮ সালে বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ শেষ হলেও তৎকালীন তৃণমূল সরকারের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং বালি পুরসভাকে আলাদা করা সংক্রান্ত একাধিক আইনি ও রাজনৈতিক জাঁতাকলে আটকে যায় এই নির্বাচন। যার ফলে বিগত ৮ বছর ধরে আমলানির্ভর ‘প্রশাসক’ দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছিল এই ঐতিহ্যবাহী পুরনিগম। এতে নাগরিক পরিষেবা তলানিতে ঠেকেছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ ছিল হাওড়াবাসীর।

‘জনগণের বোর্ডই চালাবে হাওড়া’, স্পষ্ট বার্তা শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানান, আমলাদের দিয়ে দিনের পর দিন পুরসভা চালানো কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের নীতি হতে পারে না।

তিনি বলেন, “হাওড়াবাসী দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে তাঁদের নিজেদের পছন্দের পুরবোর্ড গঠন করা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আমরা এই অনিয়ম আর চলতে দেব না। ২০২৬-এর মধ্যেই নির্বাচন করার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে সমস্ত সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত ভোটের দিনক্ষণ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হবে।”

বিরোধী শিবিরের ঘুম ওড়াল নতুন সরকারের স্ট্র্যাটেজি: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই অতর্কিত নির্বাচনী ঘোষণায় ইতিমধ্যেই হাওড়া জেলা রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সদ্য ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূল কংগ্রেসের গড় হিসেবে পরিচিত হাওড়ায় এই পুরভোট নতুন সরকারের জন্য যেমন বড় পরীক্ষা, তেমনই নিজেদের জমি ফিরে পাওয়ার জন্য বিরোধীদের কাছেও মরণ-বাঁচন লড়াই।

মুখ্যমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্বাচনের আগে ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা বালি পুরসভার জট সম্পূর্ণ আইনি উপায়ে মিটিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে ভোট হওয়া নিয়ে আর কোনো প্রশাসনিক বাধা নেই। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর হাওড়ার রাজপথে ফের ভোট-উৎসবের এই মেগা ঘোষণা যে ২০২৬-এর বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy