হাওড়ায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর রুদ্ররূপ! ‘প্রয়োজনে অরূপ রায়কেও ছাড় নয়’, বেআইনি নির্মাণ ও অনুপ্রবেশে চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর থেকেই একের পর এক কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার তাঁর নজরে হাওড়া শহরের দীর্ঘদিনের ‘ব্যাধি’— বেআইনি নির্মাণ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ। বৃহস্পতিবার হাওড়ায় আয়োজিত একটি হাইপ্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এই দুই জ্বলন্ত ইস্যুতে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের লাইফলাইন অর্থাৎ পুকুর বা জলাশয় বুজিয়ে যাঁরা বহুতল বা বেআইনি বাড়ি হাঁকাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি নেওয়া হবে। এই দুর্নীতির তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে শাসক-বিরোধী কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

‘প্রয়োজনে অরূপ রায়কেও ছাড় নয়!’ মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থান

হাওড়া শহর ও তার সংলগ্ন এলাকায় প্রোমোটিং সিন্ডিকেট এবং পুকুর চুরির ঘটনা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে তিনি সাফ নির্দেশ দেন, কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবের কাছে মাথা নত করা যাবে না।

এই প্রসঙ্গে হাওড়ার দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের নাম টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বেআইনি নির্মাণের তদন্ত নিরপেক্ষভাবে হবে। এই চক্রের পেছনে যদি অরূপ রায়ের মতো বড় কোনো নেতার নামও জড়ায়, তবে তাঁকেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইন সবার জন্য সমান।” মুখ্যমন্ত্রীর এই একটি মন্তব্যেই রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে কড়াকড়ি ও কড়া বার্তা

বেআইনি নির্মাণের পাশাপাশি রাজ্যের নিরাপত্তা এবং জনবিন্যাসের ওপর আঘাত হানা অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধেও এদিন খড়্গহস্ত হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানান, পশ্চিমবঙ্গের সীমানা পেরিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে রাজ্যে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে বসবাস করার দিন শেষ।

অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে এবং রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে পালন করা হবে।

প্রশাসনের প্রতি কড়া টাস্ক: মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ প্রশাসনকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে হাওড়ার কোথায় কোথায় পুকুর বোজানো হয়েছে এবং কারা এই বেআইনি নির্মাণের সাথে যুক্ত, তার সম্পূর্ণ তালিকা তৈরি করে অ্যাকশন রিপোর্ট (Action Report) জমা দিতে হবে।

রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘অল-আউট অ্যাকশন’ মোড এবং হাওড়ার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ যে আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy