‘গরুর গড় আয়ুই ১৫ বছর, বয়স মাপবেন কীভাবে?’ নতুন পশুহত্যা নীতি নিয়ে এবার খোদ হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনা!

রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জারি হওয়া পশুহত্যা সংক্রান্ত কড়া নির্দেশিকা নিয়ে এবার আইনি জটিলতা তৈরি হলো। গরু, মহিষ ও বাছুর জবাইয়ের ওপর সরকারের জারি করা নতুন বিধিনিষেধের যৌক্তিকতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে খোদ আদালতের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের নতুন নীতি নিয়ে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছে। হাইকোর্টের সাফ প্রশ্ন— “যেখানে গরুর গড় আয়ু ১৫ বছর, সেখানে পশুদের বয়স নির্ধারণ করার বিজ্ঞানসম্মত ও স্পষ্ট নীতি কোথায়?” আদালতের এই কড়া পর্যবেক্ষণে রীতিমতো চাপে রাজ্য প্রশাসন।

কেন আদালতের এই কড়া প্রশ্ন? নেপথ্যে সরকারি নিয়মের ‘গলদ’

সম্প্রতি রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছিল, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো গবাদি পশু (গরু বা মোষ) জবাই করা যাবে না। আর এই নিয়ম কার্যকর করতে গিয়েই দেখা দিয়েছে তীব্র আইনি ও বাস্তবসম্মত জটিলতা।

এদিন শুনানির সময় মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন, একটি গরুর স্বাভাবিক গড় আয়ুই যেখানে ১৫ বছর, সেখানে ১৪ বছর বয়স নির্ধারণ করার অবাস্তব নিয়ম কীভাবে কার্যকর করা সম্ভব? কোনো পশুর বয়স ১৩ নাকি ১৪, তা কেবল দাঁত দেখে বা সাধারণ চোখে নিখুঁতভাবে বলা অসম্ভব। এর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট সায়েন্টিফিক বা স্পষ্ট গাইডলাইন রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় নেই।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ: আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো নীতি তৈরি করার আগে তার বাস্তব রূপায়ণের দিকটি খতিয়ে দেখা উচিত। পশুর বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে যদি কোনো স্পষ্ট ও বিজ্ঞানসম্মত গাইডলাইন না থাকে, তবে তা সাধারণ ব্যবসায়ী এবং চিকিৎসকদের জন্য চরম বিভ্রান্তি ও হেনস্থার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

চিড়িয়াখানায় খাদ্য সংকট ও মাংস ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

রাজ্যে বিজেপি সরকার এই নতুন নিয়ম আনার পর থেকেই আইনি ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে যেমন নিয়মের কড়াকড়ির জেরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানাগুলোতে মোষ ও গরুর জোগান বন্ধ হয়ে গিয়েছে, অন্যদিকে আলিপুর চিড়িয়াখানা ও বেঙ্গল সাফারির বাঘ-সিংহদের পাতেও মাংসের টান পড়েছে। মাংস ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, এই অস্পষ্ট আইনের কারণে পুলিশি হেনস্থা এড়াতে অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা রাজ্যের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

রাজ্যের কাছে জবাব তলব

কলকাতা হাইকোর্ট এই বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে, ঠিক কীসের ভিত্তিতে এবং কোন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশুর বয়স যাচাই করা হবে, তা হলফনামা আকারে আদালতকে জানাতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সপ্তাহে। এখন দেখার, হাইকোর্টের এই তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়ে নতুন সরকার তাদের পশুহত্যা সংক্রান্ত নির্দেশিকায় কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন আনে কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy