বসিরহাটে ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সাতসকালে বসিরহাট থানার শশীনা গ্রামের ১০৫ নম্বর বুথের বিজেপি সভাপতি অনিল বরণ মল্লিকের বাড়িতে দু-দুটি তাজা বোমা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেবল বোমা নয়, দুষ্কৃতীরা একটি চিরকুটে লিখে রেখে যায়—‘ইন দ্য ভোগ অফ মা’। এই রহস্যময় বার্তা ও বোমার উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা বিজেপি নেতার বাড়ির মূল দরজার সামনে এই তাজা বোমাগুলো রেখে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলতেই অনিল বরণ মল্লিকের পরিবারের সদস্যরা বোমাগুলো দেখতে পান। আতঙ্কিত পরিবার দ্রুত বিষয়টি স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও পুলিশকে জানায়। বোমার পাশাপাশি তিনটি বোতলের গলায় দড়ি বেঁধে গ্রিলের গায়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে যাওয়ায় বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।
ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় বসিরহাট থানার পুলিশ এবং মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘিরে ফেলে এলাকা। পরে বোমারু স্কোয়াড এসে তাজা বোমা দুটি উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা করে। বসিরহাটের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় বিজেপি নেতার বাড়িতে এভাবে বোমা রেখে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বিজেপি নেতা অনিল বরণ মল্লিকের অভিযোগ, এই ঘটনার পেছনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই যুক্ত রয়েছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির হয়ে এলাকায় সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দলের জন্য কাজ করছেন। সেই আক্রোশ থেকেই তাকে ভয় দেখাতে এবং রাজনৈতিক জমি হারানোর ভয়ে তৃণমূল কর্মীরা এই কাজ করেছে বলে তিনি দাবি করেন। অনিলবাবু অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের এবং এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। বসিরহাটের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এলাকায় নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে ছোটোখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিরকুটে লেখা বার্তার রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অশান্তি না ছড়ায়। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।





