লোকসভা নির্বাচনের আবহে রাজ্যে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ (CAA)। অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট দাবি, সিএএ-র আওতায় যাঁরা আসবেন না, তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবেই গণ্য করা হবে এবং আইন অনুযায়ী তাঁদের গ্রেফতারিও নিশ্চিত।
বুধবার (২০ মে) নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী নাগরিকত্ব ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিএএ এবং এনআরসি নিয়ে যে অবস্থান নিয়েছেন, তারই পাল্টা দিতে গিয়ে শুভেন্দু এই কড়া বার্তা দেন।
‘সিএএ-র বাইরে থাকলেই গ্রেফতার’
শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রীয় সরকার শরণার্থী এবং অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যেকার ফারাক স্পষ্ট করে দিয়েছে। যাঁরা ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে এ দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দিতেই সিএএ আনা হয়েছে। কিন্তু যাঁরা বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এ রাজ্যে ঢুকেছেন এবং সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত হতে চাইছেন না, তাঁদের কড়া আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। বিরোধী দলনেতার কথায়, “যাঁরা সিএএ-র আওতায় আসবেন না, তাঁরা আইনত অনুপ্রবেশকারী। আর আইন অনুযায়ী অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেফতার হওয়াই দস্তুর।”
মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা শুভেন্দুর
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাগাতার অভিযোগ করে আসছেন যে, সিএএ-র আবেদন করলেই সাধারণ মানুষ তাঁদের বর্তমান নাগরিকত্ব হারাবেন এবং তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি পালটা দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী আসলে ভোটব্যাংকের রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাংলায় মেরুকরণের রাজনীতি এবং সিএএ ইস্যু আরও জোরালো হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর এই সাম্প্রতিক মন্তব্য শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যেকার রাজনৈতিক পারদকে যে আরও কয়েক ডিগ্রি বাড়িয়ে দিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ওপার বাংলা থেকে আসা মতুয়া এবং অন্যান্য উদ্বাস্তু ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতেই পদ্ম শিবিরের এই কৌশল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





