সিনেমার থ্রিলার স্ক্রিপ্টকেও হার মানাবে বাস্তবের এই গোয়েন্দা অপারেশন। ভারতে বড়সড় নাশকতার ছক কষে বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে ঢুকেছিল পাকিস্তানের মদতপুষ্ট নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র এক খতরনাক স্লিপার সেল এজেন্ট। লক্ষ্য ছিল, ভারতের গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিতে নিজের চেহারাটাই বদলে ফেলা। কিন্তু সাধের ‘মেকওভার’ করতে যাওয়াই কাল হলো তার। দেড় লাখ টাকা খরচ করে গুরুগ্রামের এক নামী ক্লিনিকে কসমেটিক সার্জারি করানোর মাঝপথেই তাকে হাতেনাতে দপন করল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
বাংলাদেশ থেকে হামলার ছক ও ভোলবদল!
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (NIA) ও অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS) সূত্রে খবর, ধৃত লস্কর জঙ্গি বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আত্মগোপন করেছিল। তার আসল লক্ষ্য ছিল ভারতের একাধিক মেট্রো সিটিতে আত্মঘাতী হামলার ছক সাজানো।
কিন্তু ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় নাম থাকায় সে জানত যে কোনোও মুহূর্তে ধরা পড়ে যেতে পারে। তাই চেহারা পুরোপুরি বদলে ফেলার এক মাস্টারপ্ল্যান সাজায় সে। এই উদ্দেশ্যে দিল্লি সংলগ্ন গুরুগ্রামের (Gurugram) একটি অভিজাত কসমেটিক ক্লিনিকে ভুয়ো পরিচয়পত্র দিয়ে ভর্তি হয় ওই জঙ্গি।
চকচকে দাঁত আর ঘন চুলের নেশাই ডোবাল!
গোয়েন্দা নথিতে থাকা ছবির সাথে যাতে কোনো মিল না থাকে, তার জন্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ করে নিজের ভোলবদল করার সিদ্ধান্ত নেয় সে। তার মেকওভারের তালিকায় ছিল:
হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট (Hair Transplant): মাথায় ঘন চুল গজানোর প্রক্রিয়া।
ডেন্টাল কসমেটিক সার্জারি (Dental Surgery): চকচকে ও নতুন গঠনের দাঁতের সেট তৈরি করা।
ফেসিয়াল রিকনস্ট্রাকশন: মুখের আদল সামান্য পরিবর্তন করা।
এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, “ও ভেবেছিল কসমেটিক সার্জারি করিয়ে নতুন চেহারা নিয়ে সে এনআইএ-র চোখ এড়িয়ে সীমান্তে বড়সড় হামলা চালাবে। কিন্তু আমাদের সাইবার উইং এবং হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স ওর ব্যাংকিং ট্রানজ্যাকশন এবং মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে ক্লিনিকটি চিহ্নিত করে ফেলে।”
সার্জারির টেবিল থেকেই সোজা শ্রীঘরে!
সার্জারির চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ওই নামী ক্লিনিকে হানা দেয় সাদা পোশাকের গোয়েন্দারা। চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে অপারেশন থিয়েটারের বাইরেই পাকড়াও করা হয় লস্করের এই দুধর্ষ এজেন্টকে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক জাল আধার কার্ড, পাকিস্তানি পাসপোর্ট এবং বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পার হওয়ার বেশ কিছু গোপন রুট ম্যাপ।
এই গ্রেফতারির ফলে ভারতে লস্কর-ই-তৈবার এক বড়সড় নাশকতার ছক ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হলো বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ধৃত জঙ্গিকে বর্তমানে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এনআইএ, যাতে এ দেশে লুকিয়ে থাকা তার বাকি সঙ্গীদেরও দ্রুত উপড়ে ফেলা যায়।





