হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালে জ্যৈষ্ঠ মাস একটি বিশেষ মাহাত্ম্য বহন করছে। সূর্য ও চন্দ্রের গতিবিধির কারণে প্রতি তিন বছর অন্তর ক্যালেন্ডারে যুক্ত হয় একটি অতিরিক্ত মাস, যা ‘অধিক মাস’ বা ‘পুরুষোত্তম মাস’ নামে পরিচিত। প্রখ্যাত জ্যোতিষী ডঃ বাসবরাজ গুরুজীর মতে, ১৭ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত স্থায়ী এই মাসটি আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য অত্যন্ত পবিত্র।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ভগবান বিষ্ণু স্বয়ং এই মাসের ভার গ্রহণ করেছেন, তাই এর নাম পুরুষোত্তম মাস। শাস্ত্রীয় প্রবাদ রয়েছে—”অধিকাস্য অধিক ফলম”, অর্থাৎ এই মাসে করা যেকোনো ধর্মীয় কাজ সাধারণ সময়ের তুলনায় দশগুণ বেশি ফল প্রদান করে। এই মাসে বিবাহ বা গৃহপ্রবেশের মতো জাগতিক শুভ অনুষ্ঠান বর্জন করে আত্মিক শুদ্ধি ও ঈশ্বর আরাধনায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই মাসে বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ, ‘ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ মন্ত্র জপ এবং ভগবদ্গীতা পাঠ করা অত্যন্ত মঙ্গলজনক। ডঃ গুরুজীর মতে, অধিক মাসে ‘৩৩’ সংখ্যার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ৩৩টি প্রদীপ জ্বালানো, ৩৩টি দ্রব্য দান বা ৩৩ জনকে অন্নদান করলে তেত্রিশ কোটি দেবতার আশীর্বাদ লাভ করা সম্ভব। দরিদ্রকে দান এবং অভাবীদের সাহায্য করা এই মাসের শ্রেষ্ঠ পুণ্য কাজ। সব মিলিয়ে, জীবনের শান্তি ও সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এই মাসটি ভক্তি ও ত্যাগের এক অনন্য সুযোগ।





