প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সমন্বয় সাধনে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার উত্তরবঙ্গের সচিবালয় ‘উত্তরকন্যা’-য় এক প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এখন থেকে রাজ্যের যেকোনো সরকারি প্রশাসনিক সভায় শাসকদলের পাশাপাশি বিরোধী দলের বিধায়কদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সরকারি প্রকল্পের সঠিক রূপায়ণে দলমত নির্বিশেষে জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
এদিনের বৈঠকে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস, পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশিথ প্রামাণিক এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালসহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন, শুধুমাত্র বিধায়করাই নন, রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজে সাংসদদেরও যেন বৈঠকে ডাকা হয়। শুভেন্দু অধিকারী এদিন স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো সাধারণ মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত সরকারের আমলে প্রশাসনিক বৈঠকে জনপ্রতিনিধিদের যে দূরত্ব ছিল, তা মুছে ফেলে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করলেন শুভেন্দু। তিনি সাফ জানিয়েছেন, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের সংকট মোকাবিলা ও উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়াতে প্রশাসনের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের নিবিড় যোগাযোগ অত্যন্ত জরুরি। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের পর উত্তরবঙ্গে এটাই তাঁর প্রথম বড় প্রশাসনিক সফর। এদিন বিমানবন্দরে নেমেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে তিনি নিয়মিত উত্তরবঙ্গ সফরে আসবেন এবং উত্তরকন্যা সচিবালয়ে বসেই রাজ্যের কাজের তদারকি করবেন। তাঁর এই পদক্ষেপে প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।





