দেশের কোটি কোটি চাকুরিজীবীদের জন্য সুখবর নিয়ে এলো এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)। প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ (PF) সংক্রান্ত তথ্যের খোঁজখবর নেওয়া এবার আরও সহজ ও জলভাত হতে চলেছে। উমং (Umang) অ্যাপ বা ইপিএফও-র অফিশিয়াল পোর্টালে লগইন করার ঝঞ্ঝাট এড়িয়ে এবার সরাসরি জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপের (WhatsApp) মাধ্যমেই জেনে নেওয়া যাবে পিএফ ব্যালেন্স থেকে শুরু করে ক্লেইম স্ট্যাটাস পর্যন্ত সব কিছু। মূলত সদস্যদের দ্রুত, সরাসরি এবং কোনো বাধা ছাড়াই পরিষেবা দিতেই এই নজিরবিহীন আধুনিক উদ্যোগ নিয়েছে EPFO।
কীভাবে কাজ করবে এই ‘মেগা’ পরিষেবা?
ইপিএফও-র এই নতুন ডিজিটাল পরিষেবাটি ব্যবহার করা অত্যন্ত সহজ। এর পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করবে একটি অত্যন্ত উন্নত এআই (AI) চালিত চ্যাটবট, যা সরাসরি লিঙ্ক করা থাকবে মূল ডেটাবেসের সঙ্গে।
ধাপ ১: প্রথমে EPFO-র নির্ধারিত অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে গিয়ে শুধুমাত্র ‘Hello’ লিখে একটি মেসেজ পাঠাতে হবে।
ধাপ ২: মেসেজটি পৌঁছানো মাত্রই এআই চ্যাটবট সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর এবং ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (UAN) ভেরিফাই বা যাচাই করে নেবে।
ধাপ ৩: যাচাইকরণ প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হলেই চ্যাটবটের স্ক্রিনে একটি সহজ মেনু বা তালিকা ভেসে উঠবে। সেখান থেকে ব্যবহারকারী নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অপশন বেছে নিতে পারবেন।
হোয়াটসঅ্যাপে কী কী সুবিধা পাবেন উপভোক্তারা?
নতুন এই ইন্টারেক্টিভ চ্যাটবট ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘরে বসেই মূলত ৪টি বড় সুবিধা পাবেন পিএফ অ্যাকাউন্টধারীরা: ১. ব্যালেন্স চেক: মুহূর্তে অ্যাকাউন্টে কত টাকা জমা রয়েছে তা দেখে নেওয়া যাবে। 2. মিনি স্টেটমেন্ট: পিএফ অ্যাকাউন্টের শেষ ৫টি লেনদেন বা কন্ট্রিবিউশনের বিস্তারিত খতিয়ান জানা যাবে। ৩. ক্লেইম ট্র্যাকিং: পিএফ-এর টাকা তোলার জন্য আবেদন করা হয়ে থাকলে, সেই ক্লেইমের বর্তমান স্ট্যাটাস কী অবস্থায় রয়েছে তা ট্র্যাক করা যাবে। ৪. দ্রুত কাস্টমার সাপোর্ট: পিএফ সংক্রান্ত বিভিন্ন জরুরি পরিষেবার জন্য মিলবে তাৎক্ষণিক গাইড ও সহায়তা।
কেন এই উদ্যোগ এবং বাড়তি পাওনা কী?
EPFO-র শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি পরিষেবাকে আমজনতার কাছে আরও বেশি সহজ, দ্রুত এবং ব্যবহারবান্ধব করে তোলা। যেহেতু ভারতের সিংহভাগ মানুষ প্রতিদিন নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন, তাই এই পরিচিত প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াটাই সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই পরিষেবাটি পাওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই; বছরের ৩৬৫ দিন, ২৪ ঘণ্টাই এই সুবিধা চালু থাকবে। এর পাশাপাশি, যাঁরা ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের সুবিধার্থে আঞ্চলিক ভাষাতেও (বাংলাসহ) সমস্ত তথ্য পাওয়ার বিকল্প রাখা হয়েছে। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার চাকুরিজীবীরাও এবার খুব সহজেই নিজেদের পিএফ অ্যাকাউন্টের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন।





