ভারতের নিরাপত্তার সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চল শিলিগুড়ি করিডর তথা ‘চিকেনস নেক’-কে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ভারতের এই কৌশলগত ভূখণ্ডটিকে সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছে নবান্ন। এর ফলে দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে আটকে থাকা সীমান্ত সুরক্ষার এক বড় জটিলতার অবসান ঘটল।
দীর্ঘদিন ধরে জমি জট এবং প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারণে উত্তর-বঙ্গের সীমান্ত এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪০০ কিলোমিটার জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ থমকে ছিল। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপে সেই জট কাটল এবং জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও দ্রুত গতিতে শুরু হয়ে গিয়েছে।
কেন এত বিপজ্জনক এই ‘চিকেনস নেক’?
ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে এই করিডোরটিকে ভারতের সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং বিপজ্জনক সীমান্ত অঞ্চল বলে গণ্য করা হয়।
সংকীর্ণ ভূখণ্ড: এই করিডোরটি কোনও কোনও জায়গায় মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া। অথচ, এটিই সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের (North-East India) একমাত্র লাইফলাইন।
চার দেশের চাপ: এই করিডোরের একপাশে রয়েছে বাংলাদেশ, অন্যপাশে নেপাল ও ভুটান। আর ঠিক ওপর থেকে অনবরত নজরদারি চালাচ্ছে আগ্রাসী চিন।
আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ছায়া: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে চিনা যুদ্ধজাহাজ ও পরিকাঠামোর তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলির আনাগোনা বাড়ায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি হাই-অ্যালার্ট জারি করেছে।
৭টি জাতীয় সড়ক যাচ্ছে কেন্দ্রের হাতে: সেবক থেকে কালিম্পং হাইটেক রূপান্তর
শুধু সীমান্ত সুরক্ষা নয়, এই করিডোরের পরিকাঠামো উন্নয়নেও কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। রাজ্য সরকারের অনুমোদনের পর উত্তরবঙ্গের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৭টি জাতীয় সড়ক এখন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
আগে এই সড়কগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল রাজ্যের গণপূর্ত বিভাগ (PWD)। কিন্তু ফান্ডের অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতায় গত এক বছর ধরে এখানকার সমস্ত কাজ বন্ধ ছিল। এবার এই রাস্তাগুলির দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছে ‘ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (NHAI) এবং NHIDCL। মুখ্য সচিবের কার্যালয় থেকে সবুজ সংকেত মেলায় এবার সেবক থেকে কালিম্পং পর্যন্ত এই কৌশলগত রাস্তাগুলির আধুনিকীকরণ এবং সম্প্রসারণের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হতে চলেছে।





