“জ্বালানির দামে আগুন!”-খরচ কমাতে চরম পদক্ষেপ নবান্নের! মোদী-শাহের পথেই হাঁটছে বাংলা?

বিশ্ববাজারে তেলের দামের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হতেই দেশজুড়ে হু হু করে বাড়ছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। আর এই অগ্নিমূল্য জ্বালানির বাজারে এবার বড়সড় ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে অবিলম্বে খরচে রাশ টানার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে কীভাবে ‘স্মার্ট ও টেকসই’ উপায়ে কাজ চালানো যায়, তা নিয়ে নবান্নের তরফে একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে কার্যত সব সরকারি বিভাগেই খরচে ব্যাপক কাঁটছাঁট হতে চলেছে।

নবান্নের নতুন গাইডলাইন: ঠিক কী কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?

জ্বালানির বিপুল খরচ বাঁচাতে এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার বেশ কিছু কড়া নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে:

পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ব্যবহার: সরকারি আধিকারিকদের ব্যক্তিগত বা আলিশান গাড়ির চেয়ে বেশি করে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জোর: কাগজের ব্যবহার কমাতে এবং যাতায়াতের খরচ বাঁচাতে ফাইল আদান-প্রদান ও মিটিংয়ের ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ঢাল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারা এই নিয়মের আওতায়? পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ সমস্ত বিভাগ, রাজ্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU), বোর্ড, কর্পোরেশন, সরকারি অর্থায়নে চলা সমিতি, আধা-সরকারি সংস্থা এবং ফিল্ড লেভেল অফিস—সব জায়গাতেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, খরচ কমানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের কাজের দক্ষতা বা ‘স্কিল’ বাড়াতে হবে, যাতে জনসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও খামতি না থাকে।

📈 কলকাতায় জ্বালানির নয়া দাম (এক নজরে)

মঙ্গলবার সকালে ফের একদফা দাম বাড়ার পর মেট্রো শহরগুলির মধ্যে কলকাতাতেই জ্বালানি সবচেয়ে মহার্ঘ হয়েছে।

পেট্রোল: লিটার প্রতি ৯৬ পয়সা বেড়ে নতুন দাম হয়েছে ১০৯.৭০ টাকা।

ডিজেল: লিটার প্রতি ৯৪ পয়সা বেড়ে নতুন দাম হয়েছে ৯৬.০৭ টাকা। (উল্লেখ্য, গত শুক্রবারও লিটার প্রতি পেট্রোল ও ডিজেলে একধাক্কায় ৩ টাকা করে শুল্ক বাড়ানো হয়েছিল। এক সপ্তাহের মধ্যে এই ডাবল ঝটকায় মাথায় হাত আমজনতার।)

দলমত নির্বিশেষে একই পথে কেন্দ্র ও রাজ্য

জ্বালানির এই সংকট মোচনে এবং পরিবেশবান্ধব বার্তা দিতে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের একাধিক রাজ্যই এখন বিকল্প পথের সন্ধান করছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের কনভয়ে (গাড়ির বহর) গাড়ির সংখ্যা বেশ কিছুটা কমিয়েছেন। একই রাস্তায় হেঁটে খরচ কমিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্য়মন্ত্রীরাও। এবার সেই একই সাশ্রয়ের পথে হাঁটল রাজ্য সরকারও।

তবে জ্বালানির এই লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির জেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও বাড়বে কিনা, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy