পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে এক অন্য সমীকরণ। দিকে দিকে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতাকর্মী ও নেতার গ্রেফতারির খবর সামনে আসছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো আসানসোলের নাম। শিল্পাঞ্চলের এক দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ মুখকে এবার যেতে হলো শ্রীঘরে। তোলাবাজির গুরুতর অভিযোগে আসানসোলে গ্রেফতার করা হয়েছে আইএনটিটিইউসি (INTTUC) নেতা রাজু আলুওয়ালিয়াকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার গভীর রাতে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ আচমকাই বিশেষ অভিযান চালায়। সেখান থেকেই তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় এই তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়ন নেতাকে। রাতের অন্ধকারে এই হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয় গোটা শিল্পাঞ্চলে। গ্রেফতারের পর নিয়ম মেনে রাতেই তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সোমবার কড়া পুলিশি পাহারায় তাঁকে আসানসোল জেলা আদালতে হাজির করা হয়েছে।
আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ধৃত তৃণমূল নেতা। পুলিশি ঘেরাটোপে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজু আলুওয়ালিয়া দাবি করেন, “আমাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এই গ্রেফতারি একেবারেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তবে এর পাশাপাশি তিনি এও জানান যে, দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই যে আসল সত্য এবং তাঁর সততা সবার সামনে বেরিয়ে আসবে, সে বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের আবহে এই ঘটনা আসানসোল শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক পারদকে নতুন করে চড়িয়ে দিয়েছে। এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল ও বিরোধী শিবিরের স্থানীয় নেতারা একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ এবং ‘টার্গেট করে পদক্ষেপ’ বলে সরব হয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই। সম্পূর্ণ আইনানুগ প্রক্রিয়া এবং চলতি তদন্তের সূত্র ধরেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং আইন নিজের পথেই চলবে।





