উৎসব হোক বা সঞ্চয়—ভারতীয় পরিবারে সোনা কেবল একটি মূল্যবান ধাতু নয়, এটি আবেগের সঙ্গেও জড়িত। কিন্তু সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিশেষ আবেদন দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতে আগামী এক বছর দেশবাসীকে সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই আবহে ভারতের সাধারণ মানুষের মনে একটি বড় প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে—আইনত একজন ব্যক্তি নিজের বাড়িতে ঠিক কত পরিমাণ সোনা রাখতে পারেন?
প্রচলিত অনেক ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দেশের আয়কর আইন জানাচ্ছে, বাড়িতে সোনা রাখার ক্ষেত্রে পরিমাণের ওপর কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা বা সর্বোচ্চ সীমা নেই। কোনো নাগরিক চাইলে যত খুশি সোনা নিজের কাছে রাখতে পারেন। তবে এর পেছনে রয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
আইন অনুযায়ী, বাড়িতে রাখা সোনা কেনার জন্য যে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, তার বৈধ আয়ের উৎস থাকতে হবে। অর্থাৎ, সোনা কেনার বিল, রসিদ কিংবা সোনাটি যদি উত্তরাধিকার সূত্রে (যেমন পারিবারিক সূত্রে পাওয়া গহনা) পেয়ে থাকেন, তবে তার সপক্ষে উপযুক্ত কাগজপত্র থাকতে হবে। এই সমস্ত নথি ঠিকঠাক থাকলে আয়কর বিভাগের পক্ষ থেকে ভয়ের কোনো কারণ নেই।
আয়কর অভিযানের সময় ঠিক কতটুকু সোনায় ছাড় মেলে?
আসল জটিলতা তৈরি হয় তখনই, যখন কোনো কারণে আয়কর বিভাগ কোনো বাড়িতে তল্লাশি বা অভিযান চালায়। তবে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডাইরেক্ট ট্যাক্সেস (সিবিডিটি) একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন বা নিয়ম তৈরি করে দিয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, অভিযানের সময় বাড়িতে কোনো বৈধ বিল বা রসিদ ছাড়াও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনার গহনা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা আয়কর কর্মকর্তারা কোনোভাবেই বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন না।
সাধারণত পরিবারের সদস্য সংখ্যা এবং লিঙ্গভেদে এই ছাড়ের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। ফলে বৈধ আয়ের উৎস বা রসিদ না থাকলেও নারীদের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ গহনা এবং পুরুষ ও অবিবাহিতদের ক্ষেত্রেও আইনসম্মত ছাড়ের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর চেয়ে বেশি পরিমাণের সোনা পাওয়া গেলে এবং তার বৈধ কাগজ দেখাতে না পারলে, তখনই কেবল তা আয়কর দপ্তরের আওতাভুক্ত হতে পারে।





